advertisement
আপনি দেখছেন

পশ্চিমবঙ্গে চলছে বিধানসভা নির্বাচন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি। ভোটকে কেন্দ্র করে সঙ্ঘাত তো চলছেই, পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগেরও অন্ত নেই। পান থেকে চুন খসলেই অভিযোগ যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনে।

mamata chief minister westbengal 1পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তারকেশ্বরে এক জনসভায় বলেছেন, ‘শয়তানদের কথা শুনে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হতে দেবেন না।’ বিজেপির বিরুদ্ধে সব মুসলমানকে এক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ বক্তব্যের মাধ্যমে মমতা সংখ্যালঘুদের ভোটকে প্রভাবিত করেছেন, এই মর্মে বিজেপি-র তরফে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কমিশনে এ নালিশ জানান বিজেপি নেতা মুকতার আব্বাস নাকভি। এ নালিশের পর নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি নোটিশ পাঠায়। তাতে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কমিশনের চিঠির জবাব দিতে হবে। না হলে কমিশন ব্যবস্থা নেবে। কমিশনের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের জারি করা আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে।

তবে এবারের নির্বাচন ঘোষণার আগে থেকেই রাজনৈতিক দলের সভায় নেতাদের ভাষণ শুনে মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে নির্বাচন এবং রাজনীতির বাইরে গিয়ে নেতানেত্রীরা কথা বলছেন। সংখ্যালঘু ভোটের দিকে তাকিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন সভায় বিভিন্ন সময় সংখ্যালঘু ভোট ভাগ না করার আবেদন জানাচ্ছেন। এই আবেদন করতে গিয়ে তিনি মিম নেতা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি, ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের নেতা আব্বাস সিদ্দিকীকে বিভিন্ন সভা থেকে বাচাল ও গাদ্দার বলেও সম্বোধন করছেন।

india election commissionভারতের নির্বাচন কমিশন

৩ এপ্রিল তারকেশ্বরে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘শয়তানদের কথা শুনে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হতে দেবেন না।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাকে বিজেপি ধর্মের নামে ভাগ করে দিতে চাইছে। বাংলার সংস্কৃতি নষ্ট করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’ মমতার এ মন্তব্যের বিরুদ্ধে মুকতার আব্বাস নকভির দাবি ছিল, সংখ্যালঘুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিয়ে মমতা নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন।

প্রসঙ্গত, মমতার এ মন্তব্য নিয়ে দুইদিন আগে কোচবিহারের জনসভা থেকে সরব হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসমক্ষে সব মুসলমানকে এক হতে আহ্বান করেছেন। বলেছেন, সব মুসলমান এক হও, ভোট ভাগ হতে দিও না।’ তৃণমূল নেত্রীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ‘মমতা দিদি যেমন বলছেন, তেমন যদি আমি বলতাম, সব হিন্দু এক হয়ে বিজেপিকে ভোট দাও, তাহলে নির্বাচন কমিশন আমাকে ৭-৮ দিনের জন্য নোটিস দিয়ে দিত। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরেও নোটিস আসে। জানি না, কমিশন আপনাকে নোটিস দেবে কিনা।’ প্রধানমন্ত্রী সেই কটাক্ষের দুইদিনের মধ্যেই মমতাকে নোটিস দিল নির্বাচন কমিশন।