advertisement
আপনি দেখছেন

মধ্যপ্রাচ্যের অস্ত্রের বাজারে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত যুক্তরাষ্ট্র। এরই সুযোগে ড্রোন বিক্রিতে এগিয়েছে চীন। থেমে নেই রাশিয়া। পাঁচ বছর আগে সিরিয়ায় একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনে শুরু। এরপর থেকে মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের কাছ অস্ত্র বিক্রি করে আসছে।

russia h

আল-জাজিরা বলছে, মস্কো অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে শুধু অর্থ কামাচ্ছে এমন নয় বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দারুণভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে, যা এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যকে এখন চ্যালেঞ্জ করে বসেছে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়, মিশর সুখোই সু-৩৫ মডেলের বহুমাত্রিক যুদ্ধে পারদর্শী যে ২৪টি বিমান কিনেছিল, তার প্রথম চালানে ৫টি হস্তান্তর করেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র থেকে মিশর পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ বোমারু বিমান কিনতে ব্যর্থ হওয়ার পরই মস্কোর দিকে হাত বাড়ায়।

ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক সু-৩৫ এবং দি স্টেট-অব-আর্ট সু-৫৭ পঞ্চম প্রজন্মের কমব্যাট যুদ্ধবিমান কিনতে রাশিয়ার সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আঙ্কারার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ কেনার পথ রুদ্ধ হওয়ার পরই তারা এটি করছে। গত ১২ মার্চ রাশিয়া জানিয়েছে, তারা তুরস্কের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান টিএফ-এক্স উন্নয়নে আঙ্কারার সাথে আনুষ্ঠানিক আলাপে প্রস্তুত রয়েছে।

russia 2

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা (মিনা) অঞ্চলের দেশ আলজেরিয়া রুশ অস্ত্রের বড় ক্রেতা। দেশটি এক বছর আগে ১৪টি সুখোই-৩৪ বোমারু বিমান কিনেছে। এখন তারা সু-৫৭ কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

শাহের আমল থেকে রাশিয়ার অস্ত্রের ঐতিহাসিক ক্রেতা ইরান। তেহরানের ওপর এক দশকের অস্ত্র কেনার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী অক্টোবরে। ধারণা করা হচ্ছে, এরপর আবারো ইরান মস্কোর অস্ত্র নিতে আগের মতো অর্থ ঢালবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া গোটা বিশ্বেই তার অস্ত্রের বাজার পরিকল্পিতভাবে তৈরি করছে। কারণ, দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় একটি মাধ্যম এটি। ওয়েপনস সিস্টেমস অ্যাট দি হেলেনিক মিলিটারি একাডেমির অধ্যাপক কস্তাস গ্রিভাস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্রের বাজারে এত বেশি প্রভাব বিস্তার করে আছে যে, সঠিক পরিচর্যা ছাড়া রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য অস্ত্র রপ্তানি সত্যিই জটিল।’

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্য অনুসারে, ২০১৫-১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দেশ হিসেবে রাশিয়া বিশ্বে ২১ শতাংশ অস্ত্র রপ্তানি করেছে। হয়তো শিগগিরই মস্কো যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে।

russia 3

একটা সময় মিশর, তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিত্রতা গড়ে অস্ত্র কিনেছে। কিন্তু বিপরীতে তাদের সুরক্ষা না দিয়ে ওয়াশিংটন মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ইস্যু তুলে এসব দেশে অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এরপরই তারা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য অর্জনে বিকল্প উপায়ে অস্ত্রের বাজার খুঁজতে থাকে। এ সুযোগই কাজে লাগায় রাশিয়া। এখন মস্কো রীতিমতো আকাশপথ দখলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। হয়তো পেন্টাগনের এ আধিপত্য তারা অচিরেই ভেঙে দিতে সক্ষম হবে।

কস্তাস গ্রিভাস আরও বলেন, ‘ফ্রান্স থেকে গ্রিস রাফায়েল কিনছে। এখন তাদের শত্রুরাষ্ট্র তুরস্ক যেকোনো মূল্যে শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় রাশিয়া থেকে আরও উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান চাইবে। এতে দুটি প্রতিক্রিয়া হতে পারে— পশ্চিমাদের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের শীতল যুদ্ধ চাঙ্গা হতে পারে। আবার ক্ষমতার ভারসাম্য আসায় শান্তিও ফিরে আসতে পারে।’