advertisement
আপনি দেখছেন

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৪৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম বিদেশ সফরে গেছেন জো বাইডেন। গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে পৌঁছেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। আজ শুক্রবার জি-৭ এর শীর্ষ সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা।

biden and johnson atlantic charterআটলান্টিক চার্টার সই করলেন বাইডেন ও জনসন

খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবারের ওই বৈঠকে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটনালেন ঐতিহাসিক দুই মিত্র দেশের নেতারা। অর্থাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ১৯৪১ সালের স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেন এবং সই করলেন আটলান্টিক চার্টার। যা বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে প্রথম সই করেছিলেন চার্চিল ও রুজভেল্ট।

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্নওয়ালে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে দুই নেতাই জানিয়েছেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। এদিন আটলান্টিক চার্টার সই করার পাশাপাশি রাশিয়া ও চীন নিয়েও আলোচনা করেছেন বাইডেন ও জনসন।

biden and johnson coupleবাইডেন ও জনসন দম্পতি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জি-৭ সম্মেলনে মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চান বাইডেন। ট্রান্স আটলান্টিক পলিসি, রাশিয়াকে কোণঠাসা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সমঝোতা এবং চীন নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছা। একই সঙ্গে কোভিড-১৯ পরবর্তী বিশ্বের গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নিয়েও এই সম্মেলনে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ডয়চে ভেলে বলছে, জনসন ও বাইডেন বৃহস্পতিবার যে আটলান্টিক চার্টার সই করেছেন, রাশিয়া ও চীনের প্রতি তাদের মনোভাব নিয়ে সেখানে নীতি তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই রুশ-মার্কিন সম্পর্কে ঠান্ডা-গরম সম্পর্ক বিরাজ করছে। পুতিনের একনায়কত্ব মেনে নিতে পারছে না আমেরিকা। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাইছেন, ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে এবং এর মাধ্যমে রাশিয়ার বিরুদ্ধে শক্তি গড়ে তুলতে। একই নীতি চীনের ক্ষেত্রেও নিতে চাইছেন বাইডেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাশিয়ার ক্ষেত্রে হয়তো ঐকমত্য সম্ভব হলেও হতে পারে। কিন্তু চীনের ক্ষেত্রে সেটা করা সম্ভব হবে না। কারণ চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে সায় দিয়েছে জার্মানি ও ফ্রান্স। বাণিজ্যের কথা মাথায় রেখে তারা এমন কিছু করবে না, যাতে চীন বেঁকে বসে।

এদিকে, জি-৭ সম্মেলনের পর ন্যাটো এবং ইইউ-ইউএস সামিটে যাওয়ার কথা রয়েছে বাইডেনের। এর মধ্যেই আগামী বুধবার রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে বাইডেনের। এ ছাড়া জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল এবং ব্রিটেনের রানীর সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।