advertisement
আপনি দেখছেন

করোনাকালে পৃথিবীতে যেসব পরিবর্তন এসেছে চোখে পড়ার মতো, তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হচ্ছে হজ সম্পাদনের বিষয়টি। অন্যান্য বছর যেখানে ৩০ লক্ষাধিক হাজির জিকির-আজকার, তেলাওয়াতে মুখরিত হতো কাবা-মসজিদে নববীর প্রাঙ্গণ, দু বছর যাবৎ সেখানে অর্ধ লক্ষাধিক হাজি নিয়ে পালিত হচ্ছে হজ।

hajj 1করোনার জন্য এভাবেই পালিত হয়েছে এবারের হজ

গত বছরের বাস্তবতায় এবার আরো আধুনিকায়ন করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। রোবট ও স্মার্ট কার্ডের সহায়তায় সম্পাদিত এবারের হজকে বলা হচ্ছে ডিজিটাল হজ। প্রত্যেক হাজির সাথে থাকছে ট্র্যাকিং ডিভাইস। ফলে আগে প্রতিবছর হজে যেখানে অনেকগুলো ‘হারিয়ে যাওয়ার’ ঘটনা ঘটতো, এবার সেখানে এ ধরনের ঝামেলা নেই বললেই চলে।
এ বছর সৌদি কর্তৃপক্ষ ইলেকট্রনিক ‘হজ কার্ড’-এর ব্যবস্থা করেছে, যার ফলে বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য স্থানে অন্যান্য কাগজপত্র ও ডিভাইস ছাড়াই প্রবেশ করা যাচ্ছে।

hajj 2জমজমের পানি নিয়ে ছুটছে রোবট গাড়ি

এ কার্ডের ব্যাপারে সিয়াম নামের ৬৪ বছর বয়সী এক হাজি বলেন, ১৯৯৩ সালে হজের সময় আমি আমার সন্তানকে হারিয়ে ফেলি এবং সাত ঘণ্টাতেও তার কোনো খোঁজ পাইনি। এবারে তিনি নিজের হলুদ স্মার্ট কার্ডটি দেখিয়ে বলেন, আজ আমি আমার স্ত্রী এবং আমার সাথে যারা আছে, তাদের হারিয়ে ফেলার ব্যাপার উদ্বিগ্ন নই।

একই রকম মন্তব্য ৪৩ বছর বয়সী আরেক হাজি হাজেম রিহানেরও। তিনি বলেন, একবার হজে এসে আমি মিনায় গিয়ে হারিয়ে যাই। সমস্যা হয়, আমি যে কোথায় আছি, তা-ই বলতে পারছিলাম না। কারণ সবগুলো ক্যাম্প একই রকম। আমি আমার গ্রুপের সাহায্য চাই, কিন্তু তারাও আমাকে কোনো সাহায্য করতে পারেনি।

সৌদি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবহারের জন্য সবুজ, লাল, হলুদ ও নীল রঙের প্লাস্টিকের কার্ড চালু করে। ডিজিটাল এই সিস্টেমের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ সবার প্রতি নজরদারিও করতে পারছে খুব সহজে। প্রত্যেক কার্ডে হাজিদের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার, অবস্থানস্থল, মোবাইল ফোন নাম্বার, গাইডের আইডি নাম্বারসহ বিভিন্ন কিছু যুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

চলবি বছরে, কোভিড ভ্যাকসিন নেয়া ৬০ হাজার সৌদি নাগরিক ও সৌদি আরবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক হজে অংশ নিতে পেরেছেন। অথচ করোনাকালের আগে ২০১৯ সালে ২৫ লক্ষ লোক হজে অংশ নিয়েছিল।

এ বছর হজের জন্য আবেদনের বিষয়টি পুরোপুরি অনলাইনেই হয়েছিল। জেদ্দাতে অবস্থানকারী মিশরীয় এক হাজি আহমেদ আচোর বলেন, এবারের পুরো বিষয়টি খুবই স্মুথলি হয়েছিল। করোনার কারণে কিছুটা টেনশন হচ্ছিল, কিন্তু যখন আমি হজের জন্য নির্বাচিত হই, তার পরের সবকাজ খুব সহজেই হয়ে গিয়েছিল।

সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমরো আল মাদ্দাহ এই স্মার্ট কার্ডের ব্যাপারে বলেন, ভবিষ্যতে সবগুলো কাজই হবে ‘কন্ট্যাক্টলেস’। এমনকি সে সময় এটি ভার্চুয়াল ওয়ালেট হিসেবেও কাজ করবে।

এ বছর বোতলজাত জমজমের পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে রোবটের আশ্রয় নিয়েছে হজ কর্তৃপক্ষ। এর ফলে হাজিরা খুব সহজেই হাতের কাছে জমজমের পানি পেয়েছেন। এক্ষেত্রে তাদের কোনো লাইনে দাঁড়াতে হয়নি। বরং তাদের কাছেই এসে হাজির হয়েছে পবিত্র এ পানি।

সবকিছু মিলিয়ে মিশরীয় হাজি সিয়াম বলেন, হজে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহারের দ্বারা বুঝা যাচ্ছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ হজের ব্যাপারে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে।