advertisement
আপনি দেখছেন

মহামারি কোভিড-১৯ প্রতিরোধে শত্রুতা ভুলে এক সাথে কাজ করেছে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। কিন্তু ইসরায়েল এ চরম মুহূর্তেও তাদের স্বভাবসূলভ আচারণ থেকে বের হতে পারেনি। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ৫০ হাজার ডোজ মেয়াদোত্তীর্ণ কোভিড ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে ইসরায়েল। ভুলে নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার অনুপযোগী করেই ভ্যাকসিনগুলোকে সেখানে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আরব৪৮ ওয়েবসাইট এ তথ্য জানিয়েছে।

palastine vaccineগাজার মাত্র সাড়ে তিন লাখ লোক ভ্যাকসিন পেয়েছে

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় পাঠানোর জন্য রাশিয়ার তৈরি স্পুৎনিক লাইট টাইপের ভ্যাকসিনগুলো দেয়া হয়েছিল ইসরায়েলকে। কিন্তু তেলআবিব সেগুলো যথাসময়ে হস্তান্তর না করে অনুপযুক্ত পরিবেশে ফেলে রেখেছিল। এতে মেয়াদ শেষ হওয়ার পাশাপাশি এগুলোর কার্যক্ষমতাও নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া ভ্যাকসিনের চালান ঠিক সময়ে গাজায় পৌঁছাতেও বাধা দেয় ইসরায়েল।

সম্প্রতি গাজার কারেম আবু সালেম ক্রসিং দিয়ে ভ্যাকসিনের চালান অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় পাঠানো হয়। কিন্তু সেফটি টেস্টে দেখা যায়, ভ্যাকসিনগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

sputnic vaccineস্পুৎনিক ভ্যাকসিন

এর আগে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছিল, মেয়াদোত্তীর্ণ হতে যাওয়া ভ্যাকসিনগুলো প্রথমে তেল আবিব পশ্চিম তীরের কর্তৃপক্ষকে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ওই ভ্যাকসিন নিতে অস্বীকার করে। এরপরই চালানটি গাজা উপত্যকায় পাঠায় ইসরায়েল।

সবশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গাজা উপত্যকায় এ পর্যন্ত এক লাখ ৪৭ হাজার ৩৬৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে এক হাজার ২২৮ জন মারা গেছেন। ইসরায়েল কর্তৃক অবরুদ্ধ এই উপত্যকা প্রায় ২০ লাখ মানুষের জনবসতি। এর মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র তিন লাখ ৫৪ হাজার মানুষ কোভিড ভ্যাকসিন নিতে পেরেছেন।

হামাস অভিযোগ করেছে, পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় বসবাসরত ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জন্য কোভিড ভ্যাকসিন সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে ইসরায়েল। অথচ এরই মধ্যে তেল আবিব নিজের প্রাপ্তবয়স্ক (১২ বছরের অধিক) প্রায় সব নাগরিককে টিকার আওতায় নিয়ে এসেছে। এমনকি অনেকে অধিকতর সুরক্ষার জন্য বুস্টার ডোজও গ্রহণ করেছে।

গত রোববার ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক নাচম্যান অ্যাশ বলেন, চতুর্থ দফায় কোভিড সেখানে হানা দিলে, তার জন্যও পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহে প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। তিনি বলেন, আমি জানি না কখন এটি ঘটবে। তবে আমার প্রত্যাশা, আগামি ছয় মাসের মধ্যে এটি হবে না।

সূত্র : মিডলইস্টমনিটর