advertisement
আপনি দেখছেন

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, আফগানিস্তানকে বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা উচিত নয়। কারণ ইতিহাস সাক্ষী, আফগান জনগণ কখনো পুতুল সরকারকে সমর্থন দেয় না। তাই বর্তমান সংকটের অবসান ঘটাতে তালেবানের নতুন প্রশাসনকে সহায়তা করা প্রয়োজন। বুধবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনের প্রোগ্রাম ‘কানেক্ট দ্য ওয়ার্ল্ড’-কে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ইমরান খান এ কথাগুলো বলেন।

imran khan cnnসিএনএনের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে ইমরান খান

অনুষ্ঠানের উপস্থাপক বেকি অ্যান্ডারসন ইমরান খানকে প্রশ্ন করেন, আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসন কি আদৌ মানবাধিকার, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষা করবে? জবাবে ইমরান খান বলেন, আফগানিস্তান এখান থেকে কোথায় যাবে, তার ভবিষ্যদ্বাণী আমরা কেউ করতে পারি না।

আমরা কেবল আশা ও প্রার্থনা করতে পারি, সেখানে এখন যেন শান্তি ফিরে আসে। তালেবান যেহেতু বলেছে, তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার চায়, তাদের নিজস্ব প্রেক্ষাপটে নারীর অধিকার চায়, মানবাধিকার চায়; এমনকি তারা সাধারণ ক্ষমারও ঘোষণা দিয়েছে। তাই এখন পর্যন্ত তারা যা বলেছে, তার জন্য অপেক্ষা করা উচিত।

afghan govtআফগানিস্তানের তালেবান সরকার

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আফগানিস্তানকে বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া একটি স্পষ্ট বুল ধারণা। কারণ ইতিহাস দেখিয়েছে, আফগানিস্তানে কোনো পুতুল সরকার জনগণ সমর্থন করে না। তাই এখানে বসে তাদেরকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে চিন্তা না করে আমাদের উচিত তাদের সহায়তা করা। কারণ আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার এটা বুঝতে পারছে যে, আন্তর্জাতিক সাহায্য ও সহযোগিতা ছাড়া তারা এই সংকট মেটাতে পারবে না। এ অবস্থায় আমাদের উচিত তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করা।

আফগানিস্তান এখন ঐতিহাসিক চৌরাস্তায় আছে উল্লেখ করে ইমরান খান বলেন, এখন যদি তালেবান একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনে কাজ করে তাহলে তারা শান্তির পথ খুঁজে পাবে। কিন্তু যদি তারা এক্ষেত্রে ভুল করে, তাহলে পরিস্থিতি আবারো বিশৃঙ্খলার দিকে যেতে পারে। তখন সেখানে আবারো বিশাল শরণার্থী সংকট তৈরি হবে। অস্থিতিশীল আফগানিস্তান থেকে আবারো সন্ত্রাসের আশঙ্কাও দেখা দেবে।

নারীদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইমরান খান বলেন, বাইরে থেকে কেউ আফগান নারীদেরকে তাদের অধিকার দিয়ে দেবে এমনটা ভাবা একটি বড় ভুল। আফগান নারীরা শক্তিশালী। তাদের সময় দিন, তারা তাদের অধিকার পাবে। আপনি বিদেশ থেকে নারীর অধিকার আদায় করে দিতে পারবেন না।

সূত্র: দ্য ডন