advertisement
আপনি দেখছেন

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মনে করেন, কথিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকায় পাকিস্তান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি সে সময় ক্ষমতায় থাকলে পাকিস্তান এ লড়াইয়ে অংশ নিতো না। বুধবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনের প্রোগ্রাম ‘কানেক্ট দ্য ওয়ার্ল্ড’-কে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ইমরান খান এ মন্তব্য করেন।

imran khan 10পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, ফাইল ছবি

অনুষ্ঠানের উপস্থাপক বেকি অ্যান্ডারসনের এক প্রশ্নের জবাবে ইমরান বলেন, আফগান সরকারের পতনের পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে তার কথা হয়নি। উপস্থাপক এ বিষয়ে আরো পরিষ্কার করে জানতে চাইলে ইমরান খান উত্তর দেন, তিনি (জো বাইডেন) একজন ব্যস্ত মানুষ।

নাইন-ইলেভেনের পর আফগানিস্তান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকায় পাকিস্তান অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে ইমরান খান বলেন, এক পর্যায়ে ৫০টি উগ্রবাদী গোষ্ঠী আমাদের সরকারকে আক্রমণ করেছিল।

imran khan cnn 1সিএনএনের সাথে সাক্ষাৎকারে ইমরান খান

তিনি বলেন, আশির দশক থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সে সময় পাকিস্তান আফগান মুজাহিদদের বিদেশি সেনাদের দখলদারিত্ব এড়াতে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। নাইন-ইলেভেনের পর আবারো আমাদেরকে দরকার হয় যুক্তরাষ্ট্রের। সে সময় জর্জ বুশ পাকিস্তানের সাহায্য চেয়ে বলেছিলেন, আমরা পাকিস্তানকে কখনো ত্যাগ করবো না। তার এ কথার প্রেক্ষিতে পাকিস্তান আবারো আফগান লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে।

ইমরান খান জোর দিয়েই বললেন, আমি সে সময় দায়িত্বে থাকলে কখনোই এটি করতাম না।

তিনি বলেন, আগে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) মুজাহিদদের যে বিষয়গুলো সমর্থন করতো, আফগানিস্তানে অভিযান চালানোর পর থেকে তাদের ওই কাজগুলোই হয়ে গেল সন্ত্রাসবাদ। এর ফলে আমরা এদের বিরুদ্ধে চলে গেলাম। মুজাহিদরা আমাদের বিরুদ্ধে চলে গেল, পখতুন অধিবাসীরা আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিল এবং আমরা যত বেসামরিক এলাকায় হামলা চালালাম তত বেশি ক্ষতির মুখে পড়লাম। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনী সে সময় পাকিস্তানে ৪৮০ বার হামলা চালিয়েছে। মিত্রদেশ কর্তৃক এত বেশি হামলা চালানোর ঘটনা এটাই প্রথম।

পাকিস্তানের গোয়েন্দারা হাক্কানি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তালেবানকে অর্থায়ন ও সমর্থন করছে এমন অভিযোগের জবাবে ইমরান খান উল্টো প্রশ্ন করেন, পাকিস্তানের ২২ কোটি মানুষের জন্য মোট বাজেট ৫০ বিলিয়ন ডলার। আমরা কি আমাদের দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছি?

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বেসামরিক ও সামরিক সহায়তা দিয়েছে এবং আমরা ভাড়া করা বন্দুকের মতো ব্যবহৃত হয়েছি। কিন্তু পরিশেষে পাকিস্তানি জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দেশটির ১৫০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইমরান বলচেন, তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তানের মধ্যে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক দেখতে চান। এ বিষয়ে তার বক্তব্য, তারা আমাদের যুদ্ধের জন্য অর্থ দিচ্ছে, এমন এক-মাত্রিক সম্পর্ক আমরা চাই না। যুক্তরাষ্ট্রের যেমন ভারতের সাথে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক আছে,  আমাদের জন্যও এমনই স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই।

আফগানিস্তানে বর্তমান তালেবান সরকার ব্যর্থ হলে পাকিস্তানই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে ইমরান বলেন, এ রকম হলে পাকিস্তান আবারো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। কারণ পাকিস্তান ইতোমধ্যে দেশটির ৩০ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। এর বেশি কাউকে আশ্রয় দেয়া পাকিস্তানের পক্ষে আর আর সম্ভব নয়।

সূত্র: দ্য ডন