advertisement
আপনি দেখছেন

তালেবানের অধীনে আফগানিস্তান একমাস পার করল। এই একমাসে দেশটি অনেক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যেই তালেবান একটি স্থিতিশীল ও টেকসই সরকার উপহার দেওয়ার চেষ্টায় কাজ করেছে। ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট অন্তর্বতী সরকার গঠন করতেও সক্ষম হয়েছে তারা। ‌দ্য ডনের বিশ্লেষণে ধরা পড়েছে আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি।

taliban govতালেবান শাসনের একমাস অতিবাহিত হয়েছে

বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, তালেবান কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি পরিষেবাগুলো পুনরায় চালু করার জন্য পুরোদমে কাজ হচ্ছে। সড়কগুলো এখন নিরাপদ। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট প্রকট হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা বলছেন, আফগানে চুরি যেমন অদৃশ্য হয়ে গেছে, তেমনি রুটিও অদৃশ্য হয়ে গেছে।

দুই দশকের একটানা যুদ্ধাবস্থায় আফগানে দশ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। বিদেশি শক্তি গত ২০ বছরে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। তাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতিও দেখা গেছে, কিন্তু দেশটির অর্থনীতি চলে গেছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। খরা ও দুর্ভিক্ষ এখন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরের দিকেও ধাবিত হচ্ছে।

afgan refugeeএখনও দেশ ছাড়ছে অনেক আফগান

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসুচি (এফএও) বলছে, চলতি মাসের শেষদিকে খাদ্য ফুরিয়ে যেতে পারে এবং ১৪ মিলিয়ন মানুষ এখন দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তালেবান এখন তাদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে বিভিন্ন শর্তপূরণের দিকে। কিন্তু নতুন সরকার নারীদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কিনা বা আল কায়েদার মতো জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেবে কিনা- এসব প্রশ্নের চেয়ে এখন আফগানদের বেঁচে থাকার অধিকারই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

un logoজাতিসংঘ

কাবুলের অধিবাসী আবদুল্লাহ বলছেন, আফগানিস্তানের প্রায় প্রতিটি নাগরিক ও শিশু ক্ষুধার্ত। তাদের এক ব্যাগ ময়দা কিংবা রান্নার তেল নেই। ব্যাংকের সামনে লম্বা লাইন। ২০ হাজার আফগানির বেশি সপ্তাহে কেউ তুলতে পারবে না বলে সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। রিজার্ভ রক্ষার জন্য এই বিধি জারি করা হয়।

কাবুলের পথে পথে এখন নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর বাজার বসে গেছে, কিন্তু ক্রেতা নেই। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাওয়ার পরও আফগানিস্তানের অর্থনীতি ধুকছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রবৃদ্ধির হারও কমে গেছে। বহু মানুষের চাকরি নেই। সরকারি কর্মকর্তাদের বিরাট অংশ গত জুলাই থেকে বেতন পাচ্ছে না।

kabul airport afghanistanঅচলাবস্থা কাটিয়ে উঠেছে কাবুল বিমানবন্দরের

যুদ্ধাবস্থা শেষ হওয়ায় জনগণ খুশি হয়েছে, কিন্তু তাদের এখন খাবারের জন্য যুদ্ধ করতে হচ্ছে। অর্থনীতির গভীর মন্দা ঠোকাতে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা নেই। কাবুলের বিবি মাহরো এলাকার একজন কসাই বলেন, এই মুহূর্তে নিরাপত্তা বেশ ভালো কিন্তু আমরা কিছু উপার্জন করছি না। প্রতিদিন আমাদের জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ ও তিক্ত হচ্ছে।

এদিকে কাবুল বিমানবন্দরের অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার পর পরিস্থিতি এখন কিছুটা সহায়ক হয়েছে। বিমানবন্দর চালু হওয়ায় কাবুলে প্রথম ত্রাণবাহী ফ্লাইটের অবতরণ দেখা গেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস আফগান জনগণের ভয়াবহ অবস্থার ব্যাপারে আশঙ্কা করার পর আন্তর্জাতিক দাতারা ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এদিকে তালেবান সরকার গঠন করলেও বিশ্ব নেতারা চুপ হয়ে আছেন। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কোনো লক্ষণ এখনও চোখে পড়ছে না। আফগানিস্তানের ৯ বিলিয়ন ফরেন রিজার্ভ যুক্তরাষ্ট্র আটকে দিয়েছিল, তা ছাড়ার কোনো লক্ষণও নেই। আইএমএফ আফগানিস্তানের জন্য মিলিয়ন ডলারের যে সহায়তা স্থগিত করেছিল, তারও নড়চড় হচ্ছে না।

যদিও তালেবান নেতারা বলছেন, তারা আগের তালেবানের মতো চরমপন্থা অবলম্বন করবেন না। তারা বাইরের শক্তিকে বোঝাতে মরিয়া যে, তারা আগের তালেবানের মতো নয়, এই তালেবান সম্পূর্ণ নতুন এক তালেবান।

কিন্তু গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের পর কিছু বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করেছে তালেবান, সাংবাদিক এবং অন্যদের মারধরের কারণে বিশ্বব্যাপী পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়েছে। তালেবানের অধীনে নারীর অধিকার আদৌ সম্মানিত হবে কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ রয়ে গেছে। নানা কারণে তালেবান সরকার বিশ্ব নেতাদের আস্থা হারাচ্ছে।

নতুন সরকারের মন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানিকে নিয়ে বিশ্বব্যাপী নেতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকায় তার নাম আছে এবং তার মাথার দাম ১০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এর মধ্যেই হাক্কানি গ্রুপের সঙ্গে তালেবানের শীর্ষ নেতা ও নতুন সরকারের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল ঘানি বারাদারের কলহ চাউর হয়েছে। বারাদারকে হাক্কানি গ্রুপের লোকেরা হত্যা করেছে বলেও খবর রটেছিল। তবে বারাদার বলেছেন, তালেবানে কলহের তথ্য সবই মিথ্যা।