advertisement
আপনি দেখছেন

সম্প্রতি হামাসের বিষয়ে নতুন এক গবেষণা প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। দেশটির আলসা রিসার্চ সেন্টারের একটি নতুন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, হামাস লেবাননে ইসরায়েলকে একযোগে দুটি ফ্রন্ট থেকে হুমকি দেওয়ার জন্য কার্যক্রম বৃদ্ধি করছে। তবে গবেষণায় দাবি, লেবাননে হামাসের এই সক্রিয় উপস্থিতি হিজবুল্লাহ ভালভাবে নেয়নি। তারা ক্ষুব্ধ হচ্ছে হামাসের প্রতি। জেরুজালেম পোস্ট।

flag israel hamas hizbullahনতুন এক গবেষণা প্রকাশ করেছে ইসরায়েল

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, লেবাননে হামাসের গোপন বাহিনী গড়ে উঠেছে। কয়েক বছর ধরে হামাসের ‘কনস্ট্রাকশন ব্যুরো’ এর জন্য শত শত কর্মী কাজ করছে। তারা ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে সামরিক সক্ষমতা তৈরি করছে। লেবাননের ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির ঘিরে হামাস শক্তি বৃদ্ধি করছে। কিন্তু এ বিষয়টি লেবানন কর্তৃপক্ষ এবং হিজবুল্লাহর কাছ থেকে গোপন করা হয়েছে। ফলে হামাস হিজবুল্লাহর জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। লেবাননে হামাসের ‌‌'কনস্ট্রাকশন ব্যুরো'র নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাজেদ কাদের মাহমুদ কাদের, যিনি সম্প্রতি ইস্তাম্বুল থেকে লেবাননে চলে এসেছেন। বলা হচ্ছে, হামাস কনস্ট্রাকশন ব্যুরোর দুটি ইউনিট রয়েছে। একটি আল-শিমালি ইউনিট এবং আপরটি খালেদ আলী ইউনিট। প্রতিটি ইউনিটে শত শত কর্মী রয়েছে।

আল-শিমালি ইউনিট লেবাননের পাঁচটি প্রধান ভৌগোলিক এলাকায় কাজ করে। এলাকাগুলো হল- বৈরুত, ত্রিপোলি, বেকা, সিডন এবং টায়ার । এর নেতৃত্বে আছেন উইলিয়াম আবু শানাব যিনি ইরান এবং ইন্দোনেশিয়ায় পেশাদার ইউএভি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তার ডেপুটি হলেন বারায়া হাসান ফারহাত এবং ইউনিটের গোয়েন্দা কর্মকর্তা খলিল মুহাম্মদ আজম। খালিদ আলী ইউনিটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদ হামিদ জাবারা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাসের ওই দুটি ইউনিট রকেট, ড্রোন এবং ছোট মানবহীন সাবমেরিনসহ লেবাননে অস্ত্র উৎপাদনে সক্ষম। তারা নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং বিশেষায়িত যোগ্যতা কোর্স যেমন স্নাইপিং, ট্যাঙ্ক বিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ, ড্রোন অপারেটর, শহুরে যুদ্ধ, বৈমানিক, নৌ ডাইভিং এবং কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা সংগ্রহের ক্ষেত্রেও কাজ করে।

কাদেরের ডেপুটি মুহাম্মদ ইব্রাহিম ওয়াধ সেলিম ব্যুরোর উৎপাদন বিভাগের প্রধান বলে জানা গেছে, যারা প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে এবং রকেট ও ড্রোন তৈরি ও উৎপাদন করে। সেলিমকে বাণিজ্যিকভাবে একজন যান্ত্রিক প্রকৌশলী বলা হয় এবং হামাসের মাঝারি পাল্লার রকেট উন্নয়ন কর্মসূচির অন্যতম নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গ্রুপের রকেট, ইউএভি এবং বিস্ফোরক সাবমেরিন প্রযুক্তির উন্নতির পেছনে তিনিই রয়েছেন। প্রতিবেদনে লেবাননে হামাসের আরও কয়েকজন সিনিয়র কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন গ্রুপের রাজনৈতিক ব্যুরোর ডেপুটি হেড সালেহ আল-আরাউরি।

ইসরায়েলি প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, লেবাননে হামাসের প্রধান হলেন আহমেদ আবদ আল-হাদি, যিনি ২০১৯ সাল থেকে আবু-ইয়াসার নামে পরিচিত। আর তার ডেপুটি হচ্ছেন জিহাদ টা। এর আগে লেবাননের প্রধান ছিলেন ওসামা হামদান, যিনি বর্তমানে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য। তিনি হামাসের ‘আরব ও ইসলামি সম্পর্ক ব্যুরোর প্রধান’ উপাধিও ধারণ করেন।
দক্ষিণ লেবাননে হামাসের প্রধান আয়মান শানা। হামাস কয়েক দশক ধরে লেবাননে সক্রিয় এবং দেশে তার সামরিক কার্যক্রম ইরানের কুদস ফোর্সের ফিলিস্তিন শাখার সহায়তা, দীক্ষা এবং তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে।

খবরে বলা হচ্ছে, সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ইরানের খতম আল-আম্বিয়ার কমান্ডার গোলাম আলি রশিদ জানান, কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি হত্যার তিন মাস আগে বলেছিলেন তিনি ইরানের ভূখণ্ডের বাইরে ছয়টি সেনাবাহিনী সংগঠিত করেছিলেন।

প্রতিবেদনটি বলছে, হিজবুল্লাহ লেবাননে হামাস ও ফিলিস্তিনিদের সাধারণভাবে ‘অতিথি’ হিসেবে দেখে। তবে লেবানন থেকে হামাস পরিচালিত তীব্র এবং স্বাধীন সামরিক অভিযান তা প্রমাণ করে না। ইসরায়েল মনে করছে, লেবাননে হামাসের চলমান সক্রিয় উপস্থিতি হিজবুল্লাহর জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। হিজবুল্লাহকে না জানিয়ে হামাসের রকেট নিক্ষেপের বিষয়টি হিজবুল্লাহকে নতুন করে ভাবাতে পারে।