advertisement
আপনি দেখছেন

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সাধারণ পরিবারের প্রেমিক কেই কোমুরোকে বিয়ে করলেন জাপানি রাজকুমারী মাকো। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তিনি। রাজপ্রাসাদে গত শনিবার শেষ জন্মদিন, ৩০তম, উদ্‌যাপনের পর বিদায় নিলেন বিশ্বব্যাপী আলোচিত এই রাজকুমারী।

kei komuro princess mako 1রাজকুমারী মাকো

বিবিসি জানায়, এই বিয়ের জন্য নিয়ম অনুযায়ী রাজপ্রাসাদ ও মর্যাদাসহ সকল সুযোগ-সুবিধা ছাড়তে হয়েছে মাকোকে। এমনকি এককালীন ১৩ লাখ মার্কিন ডলার দেয়ার রীতি থাকলেও তা না নেয়ার পাশাপাশি রাজকীয় বিয়ের আচার-অনুষ্ঠানগুলোও ত্যাগ করেছেন তিনি।

খবরে বলা হয়, এর ফলে রাজপরিবারের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন করা একমাত্র রাজকন্যা হওয়ার ইতিহাস গড়লেন মাকো। তবে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে পছন্দের কোমুরোকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করা নবদম্পতিকে ‘জাপানের হ্যারি-মেগান’ বলা হচ্ছে।

kei komuro princess mako 2কেই কোমুরো ও প্রিন্সেস মাকো

এদিকে, তাদের বিয়ের বিরুদ্ধে জাপানে বিক্ষোভের মতো ঘটনাও ঘটেছে এদিন। তবে ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করতে সংবাদ সম্মেলনে মাকো বলেছেন, তাদের বিয়ে জনগণের সমস্যার কারণ হলে ‘দুঃখ প্রকাশ’ করছি। তবে যারা সব সময় সমর্থন যুগিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞও প্রকাশ করছি।

কেই কোমুরোর জায়গায় অন্য কাউকে রাখা সম্ভব না হওয়ায় বিয়েটা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে জানিয়েছেন মাকো। এর বিপরীতে এই ‘একজীবন’ ভালোবাসার মানুষ মাকোর সঙ্গে কাটিয়ে দিতে চান বলে মন্তব্য করেন কেই কোমুরো।

কিয়োডোর জানিয়েছে, মাকো বিয়ের আয়োজনে যাওয়ার আগে বেশ কয়েকবার তার বাবা ক্রাউন প্রিন্স ফুমিহিতো ও ক্রাউন প্রিন্সেস কিকোর প্রতি মাথা নুয়ে সম্মান জানান। বাড়ি ছাড়ার সময় ছোট বোনকে জড়িয়ে ধরেন তিনি।

জাপানের ইন্টারন্যাশনাল ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় ২০১২ সালে কোমুরোর সঙ্গে পরিচয় হয় মাকোর। সেই থেকে তাদের মধ্যে প্রেম, ২০১৭ সালে বাগদান সম্পন্ন হয়। ২০১৮ সালে তাদের বিয়ের পরিকল্পনা জানানো হলেও দুই বছর পিছিয়ে যায়।

জাপানের ক্রাউন প্রিন্স ফুমিহিতো মেনে না নেয়ায় এতদিন বিয়েটি আটকে ছিল। এ ছাড়া কেই কোমুরোর মায়ের আর্থিক অবস্থা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে পিছিয়ে যায় এই বিয়ে। তবে এসব বিষয় অস্বীকার করে আসছে রাজপ্রাসাদ।

জাপানি গণমাধ্যমগুলো জানায়, কেই কোমুরো নিউ ইয়র্কের একটি ল স্কুল থেকে পড়াশুনা শেষ করেছেন। তার টিউশন ফি দিতে অর্থ ধার করেছিলেন তার মা, যা ফেরত দেয়া হয়নি বলে খবর বেরিয়েছে। বিষয়টি অস্বীকার করে কোমুরো বলেন, মায়ের ঋণ পরিশোধের বিষয়টি সমাধান হয়েছে, তার পরিবারে আর্থিক সমস্যা নেই।