advertisement
আপনি দেখছেন

ভারতের মেঘালয়ে এখন প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেল পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বানার্জির দল তৃণমূল কংগ্রেস। আসাম, ত্রিপুরা, গোয়া, হরিয়ানার পর এবার পূর্বের রাজ্য মেঘালয়ে বিরোধী দল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন ধরাল তৃণমূল কংগ্রেস।

mamata trinamool chiefতৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দোপাধ্যায়

রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা মুকুল সাংমাসহ ১২ জন বিধায়ক দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে রাজ্যসভার স্পিকার মেতবাহ লিংদুর কাছে চিঠি দিয়ে দলত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান তারা। এই ঘটনাকে ‘মধ্যরাতের বিদ্রোহ’ আখ্যা দিয়েছে এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এর একদিন আগে, ২৩ নভেম্বর, দিল্লি­তে মমতার উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দেন হরিয়ানার কংগ্রেস নেতা ও সাবেক বিধায়ক অশোক তানওয়ার। একই সময়ে দলটিতে আরও নাম লেখান কংগ্রেস নেতা সাবেক ক্রিকেটার কির্তী আজাদ ও সাবেক জনতা দল নেতা পবন ভার্মা।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে মমতা বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে চলমান লড়াই-সংগ্রামে অন্য দলের যেকোনো নেতা যোগ দিতে চাইলে তাদের স্বাগত জানাবে তার দল। গত কয়েক মাস ধরে তৃণমূল কংগ্রেস যেসব রাজ্যে সংগঠন বিস্তার করেছে তার মধ্যে সর্বশেষ সংযোজন মেঘালয়। এর আগে আসাম, গোয়া, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং হরিয়ানায় কংগ্রেস নেতাদের দলে টেনে নিজেদের বিস্তার ঘটাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।

বাংলাদেশের সীমান্ত-লাগোয়া মেঘালয়ের বিধানসভায় মোট আসন ৬০টি। ৪০টি আসন তথা বিধায়ক নিয়ে বর্তমানে ক্ষমতায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। ১৮টি বিধায়ক নিয়ে প্রধান বিরোধী দলে ছিল রাহুল-প্রিয়াংকাদের কংগ্রেস।

বিধায়কদের গণবিদ্রোহের পর তাদের বিধায়ক সংখ্যা ১৮ থেকে নেমে এখন দাঁড়াল ৬-এ। ২০১০ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মুকুল সাংমা। বর্তমানে তিনি মেঘালয়ের বিরোধী দলনেতা। এ রাজ্যেও এখন প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদায় মমতার তৃণমূল।

ইতোমধ্যে ত্রিপুরা, গোয়া, হরিয়ানা, বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যের কংগ্রেস নেতারা তৃণমূলের মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। ২০২৩ সালে মেঘালয় রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর পরের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের মে মাসে ভারতের জাতীয় তথা লোকসভা নির্বাচন। এ নির্বাচনগুলোকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক দল হিসেবে পরিচিতি পাওয়া তৃণমূল দুর্দান্ত প্রতাপে ভারতের জাতীয় দলে পরিণত হচ্ছে।