advertisement
আপনি দেখছেন

অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের (এআইআইএমএস) এক গবেষণায় জানা গেছে, করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে ভারতীয় টিকা কোভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা মাত্র ৫০ শতাংশ। তাও আবার এর কার্যকারিতা থাকে টিকা নেওয়ার মাত্র ৭ সপ্তাহ পর্যন্ত। অথচ আগে বলা হয়েছিল, কোভ্যাক্সিনের কার্যকারিতার হার ৭৭ দশমিক ৮ শতাংশ। ১৫ এপ্রিল থেকে ১৫ মে-এর মধ্যে হওয়া এই গবেষণার ওপর ভিত্তি করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ‘দ্য ল্যানসেট’ মেডিকেল জার্নাল।

covaxin 1ভারতীয় কোভ্যাক্সিন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোভ্যাক্সিনের কার্যকারিতার হার যেখানে ৫০ শতাংশ, সেখানে ফাইজার-বায়োটেকের ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ৯৩.৭ থেকে ৮৮ শতাংশ। অন্যদিকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ৭৫ থেকে ৬৭ শতাংশ। তবে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে কোভ্যাক্সিন কতখানি কার্যকর, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি গবেষণায়। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি, পুনে যৌথভাবে কোভ্যাক্সিন তৈরি করেছিল।

গবেষণায় অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসের ২ হাজার ৭১৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। 

covaxin pushingকোভ্যাক্সিন পুশ করা হচ্ছে এক ভারতীয় নারীকে

গবেষকরা দেখেছেন, লক্ষণীয় কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে কোভ্যাক্সিনের সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকারিতা সামগ্রিকভাবে ৫০ শতাংশ ছিল, যা অন্তর্বর্তীকালীন পরীক্ষার ফলাফলের ৭৭.৮ শতাংশের চেয়ে কম। আর পূর্ববর্তী কোভিড-১৯ সংক্রমণসহ অংশগ্রহণকারীদের বাদ দেওয়ার পরে, সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকারিতা ৪৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, শ্রেষ্ঠত্বের মিথ্যা দাবি করতে গিয়ে করোনা প্রতিরোধে ভারত সরকার ফ্রন্টলাইন মেডিকেল এবং সাধারণ নাগরিককে একটি বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অবশ্য ভারতীয় গণমাধ্যমের সূত্রেই জানা গেছে, ভারতের অনেক সেলিব্রেটি, রাজনৈতিক নেতা, ধনী ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য থেকে ভ্যাক্সিন নিয়েছেন। কারণ তারা ভারতীয় ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার দাবিতে কখনো বিশ্বাস করেননি।