advertisement
আপনি পড়ছেন

তালেবান সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পেলেও অভ্যন্তরীণভাবে বড় একটি বাধা অতিক্রম করেছে। দেশটির শিয়া গোষ্ঠী হাজারাদের সমর্থন লাভ করেছে নতুন এই সরকার। বৃহস্পতিবার কাবুলে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে হাজারাদের বড় একটি প্রতিনিধি দল তালেবান সরকারের প্রতি এই সমর্থন ব্যক্ত করেছে।

hazara teamকাবুলে হাজারা সম্মেলন

হাজারা গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ আশরাফ ঘানির সরকারকে আফগানিস্তানের ইতিহাসের অন্ধকার সময় উল্লেখ করে বলেন, ইসলামপন্থীদের ফিরে আসার সাথে সাথে পূর্ববর্তী পশ্চিমা-সমর্থিত সরকারগুলোর অন্ধকার সময় শেষ হয়েছে। আফগানিস্তানের কোনো স্বাধীনতা ছিল না। বিদেশি দূতাবাসগুলো সরকারের প্রতিটি দিক নিয়ন্ত্রণ করতো। আল্লাহকে ধন্যবাদ, আমরা সেই অন্ধকার সময় পার করে এসেছি।

জ্যেষ্ঠ হাজারা নেতা এবং সাবেক পার্লামেন্ট সদস্য জাফর মাহদাবি এ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তিনি বলেন, গত আগস্টে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে নতুন শাসকরা যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছে, দুর্নীতি বন্ধ করেছে এবং নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। এই শিয়া নেতা তালেবানের কাছে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামীতে আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার দেখতে চাই। সেখানে সকল শ্রেণির জনগণের প্রতিনিধি থাকবে। এ সময় তিনি মেয়েদের স্কুল পুনরায় চালু করারও আহ্বান জানান।

zabihullah mujahid 5হাজারা সম্মেলনে শিয়া নেতাদের সাথে তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ

তালেবান নেতা ও মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ ওই সম্মেলনে যোগ দিয়ে বলেন, দেশ পুনর্গঠন আমাদের অগ্রাধিকার। বিদেশি হানাদারদের বিরুদ্ধে আমাদের জিহাদ শেষ হয়েছে এবং এখন আমরা দেশ গড়ার জিহাদ শুরু করব।

সিনিয়র হাজারা ধর্মগুরু আয়াতুল্লাহ ওয়ায়েজ্জাদা বেহসুদি দেশের সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পুনর্মিলনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আসুন আমরা একে অপরকে ক্ষমা করি। বর্তমান সরকারকে যদি টেকসই হতে হয়, তাহলে তাতে সবার সমর্থন থাকতে হবে।

আফগানিস্তানের প্রায় তিন কোটি ৮০ লাখ জনসংখ্যার ১০ থেকে ২০ শতাংশ শিয়া হাজারা গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে দীর্ঘকাল ধরে তারা চাপের মুখে রয়েছে।