advertisement
আপনি পড়ছেন

ভারতের দাবি, একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে তারা যে কোনো দেশ থেকে অস্ত্র কিনতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, মস্কো থেকে হাতিয়ার আমদানি করলে মার্কিন কাটসা আইনে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে, ভারতও এর বাইরে নয়।

s 400 2এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম

বিষয়টি একই সাথে ব্যবসা ও মিত্রতার সম্পর্কের। বর্তমান বিশ্বে অস্ত্র ব্যবসা একটি বড় ব্যবসা। পরাশক্তিগুলো প্রতিবছর বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি টাকার অস্ত্র বিক্রি করে থাকে। এতে একদিকে যেমন ব্যবসা পাকাপোক্ত হয়, তেমনি মিত্রতাও ঝালাই হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত ভারতে রুশ অস্ত্র ব্যবসা নিয়ে তাই সন্দিহান যুক্তরাষ্ট্র। ভারত এরই মধ্যে রুশ এস-৪০০ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম কেনার বিষয়টি পাকা করে ফেলেছে। যে কোনো মুহূর্তে রুশ অস্ত্রের এ চালান ভারতে এসে পৌঁছাতে পারে।

এ অবস্থায় গত শুক্রবার মিত্র দেশগুলোকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দেয় আমেরিকা। ওয়াশিংটন মনে করিয়ে দিয়েছে, কোনো দেশ যদি মস্কো থেকে অস্ত্র আমদানি করে তাহলে সে দেশকে মার্কিন কাটসা আইনে (কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভারসারিস থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট) অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হবে। এক্ষেত্রে ভারতকেও বিশেষ চোখে দেখা হবে না।

india russia usa relationভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া

সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা সকল বন্ধু দেশের কাছে আবেদন করছি তারা যেন রাশিয়ার তৈরি এমন কোনো অস্ত্র আমদানি না করে, যার দরুন তাদের কাটসা আইনে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে। রাশিয়ার সঙ্গে অস্ত্রচুক্তি নিয়ে ভারতকে ছাড় দেয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। কাটসা আইনে কোনো বিশেষ দেশকে ছাড় দেয়ার কোনো বিধান নেই।’

এদিকে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অজয় ভাট লোকসভায় জানিয়েছেন, রুশ এস-৪০০ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম কেনার বিষয়টি একটি সার্বভৌম দেশের সিদ্ধান্ত। নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সামারিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে সরকার হাতিয়ার ক্রয় করে। নির্দিষ্ট সময়েই এস-৪০০ ভারতের হাতে আসবে।

উল্লেখ্য, রুশ মিসাইল সিস্টেম নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান ও দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল মোকাবেলায় রাশিয়ার এই ‘এস- ৪০০’ মিসাইল খুবই কার্যকরী। তুরস্ক অনেক আগেই রাশিয়ার এ অস্ত্র কিনেছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের সাথে তার যুদ্ধবিমান সরবরাহের চুক্তি বাতিল করে দেয় এবং বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এবার ভারতের ওপরও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ভারতের সামরিক বিশ্লেষকরা বলছে, রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক চুক্তি বাতিল করবে না ভারত। মস্কোর সঙ্গে পরীক্ষিত বন্ধুত্ব বজায় রেখেই আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা করবে নয়াদিল্লি।