advertisement
আপনি পড়ছেন

ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দ্বীপ জাভাতে সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছে সাতজন। কর্মকর্তারা আজ রোববার বলেছেন, ধোঁয়াটে ধ্বংসাবশেষ এবং ঘন কাদা অনুসন্ধান প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। পূর্ব জাভা প্রদেশের লুমাজাং জেলার মাউন্ট সেমেরুর আকাশে ১২ হাজার মিটার বা ৪০ হাজার ফুটেরও বেশি ছাইয়ের পুরু স্তম্ভ ছড়িয়ে পড়ে।

death toll rises to 13 in indonesia volcano eruptionমৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে

শনিবার, ৪ নভেম্বর, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হঠাৎ অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। পরে সিয়ারিং গ্যাস এবং লাভা পাহাড়ের ঢালে প্রবাহিত হতে শুরু করে। বার্তা সংস্থা এপির বরাত দিয়ে খবরটি দিয়েছে মিয়ামি হেরাল্ড।

খবরে বলা হচ্ছে, ছাইয়ে ঢেকে গেছে বেশ কিছু গ্রাম। ভূতাত্ত্বিক জরিপ কেন্দ্রের প্রধান ইকো বুদি লেলোনো বলেছেন, একটি বজ্রঝড় এবং কয়েকদিনের বৃষ্টি, যা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে অবশেষে ৩ হাজার ৬৭৬ মিটার ১২ হাজার ৬০ ফুট সেমেরুর উপরে লাভা গম্বুজটি ভেঙে পড়ে। শনিবার অন্তত দুবার সিয়ারিং গ্যাস এবং লাভার প্রবাহ হয়। কাছাকাছি একটি নদীতে লাভা অন্তত ৮০০ মিটার বা ২ হাজার ৬২৪ ফুট পর্যন্ত প্রবাহিত হয়।

জনগণকে ঘটনাস্থল থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লুমাজাং জেলা প্রধান থরিকুল হক বলেন, ছাইয়ের ঘন স্তর বেশ কয়েকটি গ্রামকে অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। কয়েক শতাধিক লোককে নিরাপদ এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্ধারকাজ বিলম্ব হচ্ছে।

থরিকুল হক বলছেন, বৃষ্টিপাতের সাথে মিশ্রিত ধ্বংসাবশেষ এবং লাভা পুরু কাদা তৈরি হয়েছে, যার দরুন লুমাজাং এবং পার্শ্ববর্তী জেলা মালাংয়ের সাথে সংযোগকারী প্রধান সেতু এবং একটি ছোট সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে।

ন্যাশনাল ডিজাস্টার মিটিগেশন এজেন্সির মুখপাত্র আব্দুল মুহারি বলেছেন, অন্তত ১৩ জন গ্রামবাসী গুরুতর দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। ৫৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৬ জনের অবস্থা গুরুতর।

লুমাজাং জেলার প্রধান কার্যালয়ের কাছে একটি সরকারি আশ্রয়ে পালিয়ে আসা কিছু বাসিন্দা জানান, হঠাৎ সব অন্ধকার হয়ে গেল, উজ্জ্বল বিকেলটা রাত হয়ে গেল। একটি গর্জনের শব্দ এবং তাপ আমাদের মসজিদে ছুটতে বাধ্য করেছিল। ফাতমাহ নামের একজন বলেছেন, তিনি কুরাহ কোবোকান থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে পালিয়ে এসেছেন, যা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে। বিস্ফোরণটি গত জানুয়ারির তুলনায় অনেক শক্তিশালী ছিল।

ইন্দোনেশিয়া ২৭০ মিলিয়নেরও বেশি লোকের একটি দ্বীপপুঞ্জ। ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের প্রবণতা কারণ এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’ বরাবর অবস্থিত।