advertisement
আপনি পড়ছেন

জিউস ক্রনিকলের উপসম্পাদক জেক ওয়ালিস সিমন্স এক নিবন্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। ব্রিটিশ সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন দ্য স্পেক্টেটর নিবন্ধটি রোববার, ৫ নভেম্বর, অনলাইনে প্রকাশ করেছে। নিবন্ধটি পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল-

iran nuclear programইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ফাইল ছবি

জেরুজালেমের সূত্রগুলো আমাকে জানিয়েছে, মোসাদের অভিযানের নতুন নতুন লক্ষ্যস্থল এখন ইরান। তারা ইরানে শিগগির আঘাত হানতে চলেছে। এটি ইসরায়েলি নীতির পরিবর্তনের ফলাফল। এখন থেকে যখন তেহরানের প্রক্সি মিলিশিয়ারা এই অঞ্চলে সমস্যা তৈরি করবে, তখন ইহুদি রাষ্ট্র ইরানের মাটিতে প্রতিশোধ নেবে। একটি সূত্র বলেছে, ‌'অক্টোপাসের তাঁবুতে আর আক্রমণ করা হবে না, এখন আক্রমণ হবে মাথা নেওয়ার জন্য।’

অদূর ভবিষ্যতের জন্য আমি নিশ্চিত করতে পারি, শুধু বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা ড্রোন হামলায় থেমে থাকবে না ইসরায়েল। তাদের ভয়ঙ্কর গোপন পরিষেবাকে বলা হয়েছে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের অভ্যন্তরে পিনপয়েন্ট অপারেশন চালাতে। ভেতর থেকে অভিযানের মাধ্যমে ইরানকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসরায়েলের।

ইরানে মোসাদের বিস্ময়কর ক্ষমতা গত নভেম্বরে মোহসেন ফাখরিজাদেহকে হত্যার মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়েছিল। যার সম্পূর্ণ বিবরণ আমি ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছিলাম। একটি এক টন রোবট মেশিনগান টুকরো টুকরো করে দেশটিতে পাচার করা হয়েছিল এবং ওই পারমাণবিক বিজ্ঞানীকে তার ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার সময় দূর থেকে হত্যা করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। ২০১৮ সালে তেহরানের বাইরের একটি গুদাম থেকে ইরানের পারমাণবিক গোপনীয়তার সম্পূর্ণ আর্কাইভের তথ্য চুরির মাধ্যমেও মোসাদ তার সাহসী ক্ষমতা প্রদর্শন করেছিল।

মোসাদের ক্ষমতার আরও প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে। এই সপ্তাহে আমি তিনটি অপারেশনের গোপন বিবরণ প্রকাশ করেছি। দুটি নাতাঞ্জের একটি পারমাণবিক কেন্দ্রে এবং একটি কারাজের ইরান সেন্ট্রিফিউজ টেকনোলজি কোম্পানি (টিইএসএ) কারখানায়। যেগুলো মোসাদের এক হাজার কর্মীর মাধ্যমে পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তা কার্যকর করা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে মোসাদের প্রথম আঘাত ছিল ২০২০ সালের জুলাইয়ে। এটি সম্ভবত সবচেয়ে সাহসী হামলা ছিল। আগের বছর নির্মাণ সামগ্রী হিসেবে মোসাদ গুপ্তচররা ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন বিস্ফোরক বিক্রি করেছিল। যেগুলো ইরান সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড সেন্ট্রিফিউজ (আইসিএসি) নির্মাণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি ব্যবহার করা হয় মধ্য ইরানের একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনা নাতাঞ্জে। বারো মাস পর মোসাদের সরবরাহ করা গোপন বিস্ফোরকগুলো বিস্ফোরিত হয়। এতে গুদাম ও সেন্ট্রিফিউজগুলো ধ্বংস হয়ে যায়।

কিন্তু ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থানগুলির মধ্যে নাতাঞ্জে ভূগর্ভস্থ হলটি রয়ে গেছে। এ১০০০ নামে হলটিতে ৫ হাজার পর্যন্ত সেন্ট্রিফিউজ ছিল এবং ৪০ ফুট কংক্রিট এবং লোহা দ্বারা তা তৈরি করা হয় বিমান হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য। ওই সময় ইসরায়েলি গুপ্তচররা এই অভ্যন্তরীণ গোপনীয় স্থানে কর্মরত বিজ্ঞানীদের হাত করতে সক্ষম হয়েছিল মোসাদ।

তারা আন্তর্জাতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের একটি দলকে সাহায্য করছে ভেবে, বিজ্ঞানীরা বিস্ফোরক সংগ্রহ করেছিলেন যা ড্রোনের মাধ্যমে এবং একটি ক্যাটারিং লরিতে পাচার করা হয়েছিল এবং সেগুলি ভূগর্ভস্থ এ১০০০ হলের মধ্যে লাগানো হয়েছিল। পরবর্তী বিস্ফোরণ, যা এপ্রিলে এসেছিল, সেখানে ৯০ শতাংশ সেন্ট্রিফিউজ ধ্বংস করে দেয়, যা নয় মাস ধরে কমপ্লেক্সটিকে কর্মহীন করে দেয়।

অবশেষে চলতি বছরের জুন মাসে ইরানের কারাজে টেসা কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। হামলাটি একটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন দ্বারা করা হয়েছিল, যার ওজন একটি মোটরসাইকেলের সমান ছিল। যা ইসরায়েলি গুপ্তচর এবং তাদের ইরানি এজেন্টদের দ্বারা টুকরো টুকরো করে ইরানে পাচার করা হয়েছিল।

কেন এই সব ব্যাপার গুরুত্বপূর্ণ। এই সপ্তাহে ভিয়েনায় ইরানের সরকার এবং পশ্চিমা শক্তির মধ্যে আলোচনা আবার শুরু হয়েছে। প্রতিপক্ষ ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে যে, তেহরান একটি পারমাণবিক বোমার দিকে চূড়ান্ত অগ্রগতি অব্যাহত রেখে প্রতিপক্ষের সাথে খেলছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল তার পশ্চিমা মিত্রদের সাথে বৈঠক করেছে। ইসরায়েল তাদের পরামর্শ দিয়েছে যে, ইরান ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার জন্য প্রযুক্তিগত ভিত্তি তৈরি করে ফেলেছে। ইরানের এই প্রস্তুতি আঞ্চলিক ও বিশ্বশক্তির ভারসাম্য রক্ষায় একটি গেম চেঞ্জার হবে। আর এটি ইসরায়েলের জন্য একটি অসহনীয় অস্তিত্বের হুমকি।

যখন এই সংকটের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার কথা আসে, তখন জেরুজালেমকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আস্থার অভাবের জন্য ক্ষমা করা হবে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উত্তরাধিকারকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে এবং ওবামাবাদকে পুনরায় উত্তপ্ত করার জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেন 'আগে দাও, পরে ললিপপের জন্য ভিক্ষা করো' নীতি মেনে চলবেন বলে মনে হয়।

বিপরীতে ব্রিটেন একটি শক্তিশালী লাইন ধরে রেখেছে। গত কয়েক মাস লন্ডন এবং জেরুজালেমের মধ্যে অনেক সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ার ল্যাপিড উভয়েই লন্ডনে বন্ধুত্বপূর্ণ সফর করেছেন। ব্রিটেন হামাসের রাজনৈতিক শাখার পাশাপাশি এর সামরিক শাখাকেও নিষিদ্ধ করার জন্য নতুন আইন পাস করেছে।

গত সপ্তাহে ল্যাপিডের সাথে একটি বিস্তৃত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ব্রিটেন। পররাষ্ট্র সচিব লিজ ট্রাস ব্রিটেনকে প্রতিশ্রুতি দেন, আমরা ইরানের শাসকদের পারমাণবিক শক্তি অর্জন রোধ করতে দিনরাত কাজ করব।