advertisement
আপনি পড়ছেন

গত দুই বছর ধরে পুরো বিশ্বকে এককথায় তছনছ করে দিয়েছে করোনাভাইরাস। এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি মানুষ। এর মধ্যে মারা গেছেন ৫৪ লাখের বেশি। ভ্যাকসিনসহ নানা প্রতিরোধ ব্যবস্থার পরও প্রতিদিন মারা যাচ্ছে চার-পাঁচ হাজার মানুষ। এখন আবার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন বিশ্বকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। 

antibodyকৌশলে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে করোনাভাইরাস

গবেষকরা বলছেন, অ্যান্টিবডিকে বোকা বানানোর ক্ষমতাই ভাইরাসটিকে অপ্রতিরোধ্য বানিয়ে দিয়েছে। নিজেকে বাঁচাতে আর দ্রুত সংক্রমণ ঘটাতে মানবদেহে ঢুকে নীরবে ছড়িয়ে পড়ছে কোষ থেকে কোষে। বিষয়টি মানবদেহে থাকা অ্যান্টিবডিগুলোও টের পাচ্ছে না। যখন টের পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে যায়। ওমিক্রন, ডেল্টাসহ ভাইরাসের সবকটি রূপেরই আছে এই দক্ষতা।

সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকা ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস’-এ। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই গবেষণার মাধ্যমে আরো কার্যকরী নতুন ওষুধ বা টিকা আবিষ্কারের পথ খুলে যেতে পারে।

corona labকরোনাভাইরাস নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা

গবেষণায় বলা হয়, মানবদেহের কোষের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, শরীরে ঢোকার পরপরই মানবদেহের ‘প্রহরী’ অ্যান্টিবডিগুলোকে ধোঁকা দিতে করোনাভাইরাস তার বহিরাবরণের ভেতরে থাকা পদার্থগুলো (আরএনএর মতো ‘ভাইরাল পার্টিক্লস’) বের করছে না। অ্যান্টিবডিগুলো টের পেলে স্বাভাবিকভাবে ভাইরাল পার্টিক্লগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাস মানবশরীরে ঢোকার পর আশ্রয়দাতার কোষগুলোর গায়ে গিয়ে লেগে থাকে। এইভাবে থাকতে তাদের সাহায্য করে দেহকোষের বাইরের আবরণীতে থাকা এসিই-২ প্রোটিন। আর মানবকোষগুলোর গায়ে নোঙর ফেলতে ভাইরাসকে সাহায্য করে তাদের আবরণীর বাইরে থাকা শুঁড়ের মতো স্পাইক প্রোটিনগুলো।

মূল গবেষক ওহায়ো স্টেট ইউনিভার্সিটির ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক শান-লু লিউ জানান, করোনার সবগুলো ভ্যারিয়েন্টই এই অভিনব উপায়ে মানবদেহে একটি কোষ থেকে অন্য কোষে ছড়িয়ে পড়ছে। শরীরে থাকা অ্যান্টিবডিগুলো স্বাভাবিকভাবে তা টেরই পাচ্ছে না। যখন পাচ্ছে তখন অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে। কোষের প্রাচীর ভেঙে তার ভিতরে ঢুকে পড়েছে ভাইরাস। আর তার দেহের ভেতরের ভাইরাল পার্টিক্লগুলোকে বের করে দিয়েছে। ফলে মানব দেহকোষের ভিতরে তখন শুরু হয়ে গেছে ভাইরাসের দ্রুত বংশবৃদ্ধি। এইভাবে কোষ থেকে কোষে অনেকটা তরঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস।