advertisement
আপনি পড়ছেন

বারবার সমঝোতার আশ্বাসের পরও চীনের হুমকির থেকে রেহাই মিললো না ভারতের। দেশটির সেনাপ্রধানের বক্তব্য থেকে এমনই সুর শোনা গেছে। চীনের সাথে ১৪ দফা আলোচনার পরও পরিস্থিতির কোনো ধরনের উন্নতি না হওয়ার প্রেক্ষিতে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

china and india১৪তম বৈঠকে বসে ভারত ও চীন

ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে বলেছেন, দীর্ঘদিনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সামান্য একটু উন্নতি হয়েছে। তবে চীন ভারতের জন্য যে হুমকি দিয়েছে তা কোনোভাবেই হ্রাস পায়নি। যে কোনো সংঘাতে বিজয়ী হওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, যুদ্ধ বা সংঘাত সর্বদা শেষ অবলম্বনের একটি হাতিয়ার। সে পথ যদি অবলম্বন করা হয়, তাহলে আমরা বিজয়ী হব।

দীর্ঘ বিরতির পর গত বুধবার আবারো আলোচনার টেবিলে বসেছিল চীন-ভারত। এটি ছিল দুই দেশের মধ্যে সেনা পর্যায়ের ১৪তম বৈঠক। কিন্তু তাতেও কোনো সমাধান আসেনি। দুই দেশই একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু কোনো পক্ষই অন্য পক্ষের কোনো প্রস্তাবে সায় দেয়নি।

indian army cheifভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে

২০২০ সালের মে মাসে বেইজিং ১৯৯৩ ও ১৯৯৬ সালের শান্তি আলোচনায় গৃহীত প্রস্তাবগুলো বাতিল করে ১৯৫৯ সালের পুরোনো এলএসি মানচিত্রকে গ্রহণ করে। এরপরই ফের নতুন করে সীমান্তে উত্তেজনা ও সংঘাতের সৃষ্টি হয়। ২০২০ সালের মে মাস থেকে এই উত্তেজনা চলছে। একই বছরের জুনে সীমান্ত সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ ভারতীয় এবং চার চীনা সেনা নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীন সীমান্তের বিতর্কিত স্থানগুলোতে নিজেদের অবস্থান আরো পাকা করেছে। বিতর্কিত অরুণাচলে ঢুকে গ্রাম তৈরি করেছে দেশটি, সেখানকার ১৫টি স্থানের নতুন নামকরণ করেছে এবং গালওয়ান উপত্যকায় পতাকা উত্তোলন করেছে। বেইজিংয়ের দাবি, নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাতেই তারা এসব কাজ করছে। তবে ভারত প্রশাসন এ নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। দেশটির এক পক্ষ দাবি করছে, চীন অনুপ্রবেশ করে এসব কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে। অন্যপক্ষ দাবি করছে, চীন তাদের নিজেদের অংশেই এসব করছে।

এমন পরিস্থিতিতে গত বুধবার দুই পক্ষ আবারো বৈঠকে বসে। কিন্তু আগের মতোই কোনো ধরনের সমাধান ছাড়া বৈঠক শেষ হয়। ভারত কয়েকটি জায়গা থেকে চীনের সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়, কিন্তু চীনা সেনাবাহিনীকে তাতে রাজি করানো যায়নি। উল্টো ভারতকে অগঠনমূলক আলোচনা থেকে দূরে থাকার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে চীনা পক্ষ।