advertisement
আপনি পড়ছেন

এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র ভারত। কিন্তু রাশিয়া থেকে অস্ত্র কেনার কারণে সেই ভারতই পড়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতিনিধি সম্প্রতি এমনই দাবি করেছেন।

s 400 indiaএস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা

প্রতিবেশী দুই শত্রু রাষ্ট্রের হামলা থেকে ভারতের আকাশকে দুর্ভেদ্য করে তুলতে রাশিয়া থেকে অত্যাধুনিক এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম কিনেছে ভারত। বর্তমান বিশ্বে ভূমি থেকে আকাশে আঘাত হানতে সক্ষম এস-৪০০ কে রাশিয়ার অন্যতম সেরা উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বলে মনে করা হয়। চীন অনেক আগেই রাশিয়া থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনেছে। এদিকে, পাকিস্তানের ব্যাপারে সব সময়ই সন্দিহান থাকতে হয় নয়াদিল্লিকে। এ অবস্থায় ভারতের কাছে এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিকল্প ছিল খুবই কম।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে শুরু থেকেই চাপ ছিল নয়াদিল্লির ওপর। কারণ প্রথম থেকেই এই চুক্তিকে ভালো চোখে দেখেনি আমেরিকা। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সময়ই বলে দেয়া হয়েছিল, ওয়াশিংটন মনে করে নয়াদিল্লির এই ধরনের সিদ্ধান্ত না নেওয়াই উচিত।

india usa russia relationভারত-রাশিয়ার চুক্তি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন ট্রাম্প

কিন্তু সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ভারত এস-৪০০ কেনায় এখন আশঙ্কা জাগছে, হয়তো যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। তবে এ ব্যাপারে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিস্থিতি দেখার পক্ষপাতী বাইডেন প্রশাসন। পরবর্তী সময়ে তার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বাইডেনের প্রতিনিধি জেমস ও’ব্রায়েন সম্প্রতি এসব কথা বলেন।

আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে রাশিয়া এস-৪০০ উদ্ভাবন করার পর থেকেই এটি ব্যাপক আলোড়ন তোলে। ২০১৪ সালে প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়ার থেকে এস-৪০০ কেনার চুক্তি করে চীন। তুরস্কও এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনে। উভয় দেশই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় এস-৪০০ কিনতে উদ্যোগী হয় ভারত। ২০১৮ সালের অক্টোবরে ৫০০ কোটি ডলারের বিনিময়ে ৫টি এস-৪০০ কেনার চুক্তি হয় রাশিয়ার সঙ্গে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সঙ্গে সঙ্গেই ভারতকে সতর্ক করে বলেছিলেন, এর ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে ভারতকে।

ট্রাম্পের বদলে জো বাইডেন ক্ষমতায় আসলেও এ ব্যাপারে মার্কিন চিন্তাভাবনায় কোনো পার্থক্য আসেনি। কারণ দেশটিতে বিদ্যমান আইনের বদৌলতে চীন-তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। ফলে ভারতও এর আওতার মধ্যেই রয়েছে বলে নতুন করে সতর্ক করেছেন জেমস ও’ব্রায়ান।