advertisement
আপনি পড়ছেন

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস দাবি করেছেন, পুতিন তার হুকুমের গোলামকে ইউক্রেনের ক্ষমতায় বসাতে চান। তিনি পুতিনকে শীতল যুদ্ধের নায়ক ও পূর্ব ইউরোপের ‘গডফাদার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। লিজ সোমবার এক বিবৃতিতে এই দাবি করেছেন। তবে ব্রিটেনের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেনের প্রধান সন্দেহভাজন রাজনীতিক সাবেক এমপি ইয়েভেন মুরায়েভ। দি নিউ ইয়র্ক টাইমস, এপি।

vladimir putin russian presidentরাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

বিবৃতিতে লিজ বলেন, আমাদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে, রাশিয়ান সরকার কিয়েভে একজন রুশপন্থী নেতাকে বসানোর পরিকল্পনা করেছে। আর তখনই দেশটিকে দখলের ষোলোকলা পূর্ণ হবে রাশিয়ার। এ জন্য তারা ইউক্রেনের সাবেক এমপি ইয়েভেন মুরায়েভকেই সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে ধারণা করছেন।

লিজ আরও বলেন, ব্রিটেনের কাছে তথ্য রয়েছে কিয়েভকে দুর্বল করতে রাশিয়ান গোয়েন্দা পরিষেবাগুলো সাবেক বেশ ক’জন রাজনীতিকের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এদের মধ্যে আরও রয়েছেন ২০১২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী সেরহি আরবুজভও। এ ছাড়া এই নেতা ২০১৪ সালে দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন।

এছাড়া পুতিনের সাথে রয়েছেন ২০১০ থেকে ২০১২ পর্যন্ত প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচের চিফ অব স্টাফ আন্দ্রে ক্লুয়েভ, ইউক্রেনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি প্রধান ভ্লাদিমির সিভকোভিচ, ২০১০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী মাকোলো আজারভ প্রমুখ। এদের অধিকাংশই রাশিয়ার বর্তমান ইউক্রেন হামলা-পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত। তবে পুতিনের পছন্দের সারিতে এক নম্বরে আছেন মুরায়েভ ইয়েভেন।

৪৫ বছর বয়সী মুরায়েভ দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে এমন একজন ইউক্রেনীয় রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, তিনি মূলত রাশিয়ার জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ। সাধারণত রাশিয়ান অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মতামত প্রকাশ করেন। শুধু তাই নয়, তিনি কথাও বলেন রাশিয়ান ভাষায়। রুশপন্থী দল, বিরোধী ব্লকের গোষ্ঠীর সঙ্গে দৌড়ঝাঁপ করে মুরায়েভ ২০১৪ সালে ইউক্রেনের পার্লামেন্টে একটি আসন জিতেছিলেন। পরে তিনি ইউক্রেনের পশ্চিমাপন্থী দলগুলোর বিরোধিতা করতে গঠন করেন রাজনৈতিক দল নাশি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করে মুরায়েভ হরহামেশাই বলেন, জেলেনস্কি পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত একজন রুশবিরোধী প্রেসিডেন্ট। তা সত্ত্বেও রুশদের নির্বাচিত ইউক্রেন নেতাদের মধ্যে তিনি রয়েছেন। যুক্তরাজ্যের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন মুরায়েভ। তিনি বলেন, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর বিভ্রান্ত বলে মনে হচ্ছে। আমাকে রাশিয়ায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেখানে আমার বাবার ফার্মের টাকাও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।