advertisement
আপনি পড়ছেন

কাবুলের উত্তরে পাঞ্জশির প্রদেশ ঘিরে এখনও তালেবানের বিরুদ্ধে সক্রিয় ন্যাশনাল রেসিস্ট্যান্স ফোর্স (এনআরএফ)। সর্বশেষ গত ঈদুল ফিতরের সময়ও পাঞ্জশিরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তালেবান ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন সময় যেসব সংঘর্ষ হয়েছে, তাতে তালেবানদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে স্থানীয়রা। বিবিসি।

panjshir valleyপাঞ্জশির উপত্যকা

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় সূত্র বিবিসিকে জানায়, ঈদুল ফিতরের সময় ধর্মীয় বিরোধের জের ধরে ওই সংঘর্ষ শুরু হয়। তালেবানরা একজন পাঞ্জশিরি ধর্মগুরুকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করেছিল। কারণ তিনি মুসলমানদের ঈদের উৎসব উদযাপনে তালেবানের নির্দেশ অমান্য করেছিলেন। ওই ধর্মগুরু একদিন পরে ঈদের নামাজ উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এ নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে তালেবান বাহিনী অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তালেবান কর্মকর্তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। হতাহতের পরিসংখ্যান এবং কিংবা লড়াইয়ের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া কঠিন। তালেবানরা এসব সংঘর্ষকে ছোট করে দেখায় বলে এনআরএফের দাবিগুলো অতিরঞ্জিত বলে মনে করে মানুষ।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তালেবান তার নিরস্ত্র বয়স্ক আত্মীয়কে গুলি করেছিল। অন্য একজন প্রতিবেশীকে তালেবান পিটিয়ে হত্যা করেছে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে পেটানো হয়। তবে স্থানীয় তালেবান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে এনআরএফ লড়াই চালিয়ে গেলেও তা মূলত স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল। এই লড়াই মূলত তালেবান নিয়ন্ত্রণের প্রতি কোনো চ্যালেঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করে না। তবে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তালেবান পাঞ্জশিরেই সবচেয়ে শক্ত ও সশস্ত্র বিরোধিতার মুখে পড়েছে।

১৯৯০-এর দশকে তালেবান যখন প্রথম ক্ষমতায় আসে, তখনও পাঞ্জশির ছিল তালেবানবিরোধী প্রতিরোধের একটি শক্ত ঘাঁটি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের যোদ্ধারা এলাকায় তালেবান বাহিনীর ওপর প্রায় গেরিলা আক্রমণ চালায়। কিন্তু তা অনেকটাই প্রচারের আড়ালে।

এনআরএফ-এর নেতৃত্বে আছেন আহমেদ মাসুদ। তিনি তালেবানবিরোধী যোদ্ধা আহমেদ শাহ মাসুদের ছেলে। আহমেদ মাসুদ তালেবান দখলের পর আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে গেছেন। তার দলে কিছু সদস্য রয়েছে যারা আফগান সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য।

দুটি স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, পাঞ্জশিরে তালেবানদের হাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ নিরস্ত্র বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। আব্দুল্লাহ খেল উপত্যকাকে কেন্দ্র করে প্রাথমিকভাবে সংঘর্ষ শুরু হয়।