advertisement
আপনি পড়ছেন

শ্রীলঙ্কায় অলিখিত পেটচুক্তিতে প্রতিদিন বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করছেন কর্মজীবী-চাকরিচ্যুত-বেকার-চাষী-দিনমজুরসহ খুদে ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি একটাই প্রেসিডেন্ট গোতাবায় রাজাপাকসেকে সরতে হবে। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, দিনে দুবার ভরপেট খাওয়ার আশায় অনেকেই বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। প্রতিদিনই ভারী হচ্ছে বিক্ষোভ। পেটের আগুন নেভাতেই দূর-দূরান্ত থেকে বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছেন অনেকে।

sri lanka crisis 2শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভ

প্রায় দেড় মাস ধরে চলা শ্রীলঙ্কার সরকারবিরোধী বিক্ষোভের শুরু থেকেই বিক্ষোভকারীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছে কলম্বোর বেশ কয়েকটি সমাজসেবা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থা।

সমাজকর্মী আকুশলা ফার্নান্দো বলেন, ৯ এপ্রিল থেকে আমরা খাবার বিতরণ করছি। আমরা চাই প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করুক। কারণ, তিনি দেশ এবং দশের দেখভাল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এখন পর্যন্ত আমরা হাজারের বেশি মানুষকে খাবার বিতরণ করেছি।

তিনি বলেন, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে বেকার অনেক মানুষই আসেন এখানে। চলমান বিক্ষোভের কারণে চাকরিচ্যুত হওয়া মানুষেরাও আসেন এখানে। চাকরি নেই বলে চিন্তা করছেন না তারা। কারণ, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যই তাদের এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া।

খাবার বিতরণে জড়িত আরেক ব্যক্তি শেরভিন রানাতুঙ্গা জানাচ্ছেন, শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসছে। বহুদূর থেকে বাসে, ট্যাক্সিতে ও ট্রেনে চড়েও আসছেন অনেকে। সবাইকেই খাবার দেওয়া হয়। ধনী ও গরিবের মধ্যে বৈষম্য না করে আমরা সবাইকেই খাবার সরবরাহ করে থাকি।

এদিকে গত সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন। তিনি জনগণকে আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত হতে আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের পর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মাহিন্দা রাজাপাকসে।