advertisement
আপনি পড়ছেন

বিকল্প ব্যবস্থা বা ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত হওয়ার আগে রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা করতে আগ্রহী নয় হাঙ্গেরি। ইইউর আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনে তাই এ বিষয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ষষ্ঠ নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিকল্পনা আরো বিলম্বিত হতে পারে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

hungarian prime minister viktor orbanহাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান

ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি চার্লস মিশেলকে পাঠানো একটি চিঠিতে অরবান বলেন, এ নিষেধাজ্ঞায় তাদের মতো ভূমিবেষ্টিত দেশের ক্ষতিপূরণ হিসেবে যে প্রস্তাব ইইউ দিয়েছে, তা আরো পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত হাঙ্গেরি এ নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব সমর্থন করতে পারে না। ইইউ রাশিয়ার তেল-গ্যাসের বিকল্প প্রতিস্থাপনে হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়ার মতো দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছিল।

অবরানের উদ্ধৃতি দিয়ে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, পূর্ব-ঐকমত্য ছাড়াই শীর্ষ পর্যায়ে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ নিয়ে আলোচনার ফল বিপরীতমুখী হতে পারে। কারণ এক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানের বাস্তবসম্মত সুযোগ না দিয়ে শুধু নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিভাজনগুলোকেই আরো বড় করে তোলা হবে। তাই আমি পরবর্তী ইউরোপীয় কাউন্সিলে সমস্যাটি নিয়ে আলোচনা না তোলার প্রস্তাব দিচ্ছি।

oil station in budapestবুদাপেস্টের একটি তেল স্টেশন

অরবান বলেন, রাশিয়ার ওপর প্রস্তাবিত নিষেধজ্ঞায় সবচেয়ে উদ্বিগ্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ইউরোপীয় কমিশন যে অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছে, সেখানে বিস্তারিত বর্ণনা নেই।

ইইউ প্রত্যাশা করছিল, আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ষষ্ঠ নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে। এখন হাঙ্গেরির বক্তব্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইইউর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি চার্লস মিশেল সবার সাথে বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করছেন। ফলে এ সমস্যা কেটে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, হাঙ্গেরির পাশাপাশি স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, বুলগেরিয়াসহ আরো কিছু ইউরোপীয় দেশ রাশিয়ান তেল আমদানি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে হাঙ্গেরি এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ও অবিচল।

গত সপ্তাহে হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজ্জার্তো বলেছিলেন, তার দেশ জ্বালানি অবকাঠামোকে আধুনিকীকরণ করতে এবং রাশিয়ার তেল আমদানি কমানোর পরে যে সংকট তৈরি হতে পারে তার ক্ষতিপূরণের জন্য ১৫-১৮ বিলিয়ন ইউরো বা ১৬-১৯ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রত্যাশা করে। যদি ইইউ এ সহায়তা দিতে না পারে, তাহলে হাঙ্গেরি সরকার ষষ্ঠ নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজকে সমর্থন করবে না।

ইইউ নির্বাহী সংস্থা গত সপ্তাহে জ্বালানি বিষয়ে ২১০ বিলিয়ন ইউরোর একটি বিশেষ পরিকল্পনা প্রকাশ করে। রাশিয়ান শক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ গ্যাস আমদানি দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তিতে সবুজ রূপান্তর ত্বরান্বিত করা এবং জীবাশ্ম জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।