advertisement
আপনি পড়ছেন

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বলেছেন, নিজ ভূখণ্ডের কিছু জায়গা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের শান্তি চুক্তি করা উচিত। রাশিয়াকে ক্ষেপানোর পরিবর্তে অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে বসে যুদ্ধ থামানো জরুরি। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

kissinger twsdওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য রাখেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার

কিসিঞ্জার বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে ব্যর্থ হলে এবং মস্কোকে ক্ষেপানো অব্যাহত রাখলে দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বিপর্যয় নেমে আসবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে হবে, অন্যথায় যে তোলপাড় ও উত্তেজনা সৃষ্টি হবে সেটা সহজে কাটিয়ে ওঠা যাবে না।

ইউক্রেনে রাশিয়ার প্রভাবাধীন অঞ্চলগুলো নিয়ে কিয়েভ কর্তৃপক্ষের যুদ্ধ করা উচিত নয় এমন ইঙ্গিত দিয়ে ৯৮ বছর বয়সী এ কূটনীতিক বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে আদর্শ সীমান্ত হতে পারে যার যার প্রভাবাধীন অঞ্চল ভাগ করে নেওয়া। ওই ভেদরেখার বাইরে গিয়ে যুদ্ধ চালালে সেটা ইউক্রেনের স্বাধীনতার প্রশ্ন থাকে না, বরং খোদ রাশিয়ার সঙ্গে নতুন যুদ্ধ হয়ে পড়ে।

সত্তরের দশকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও জেরাল্ড ফোর্ডের প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী হেনরি কিসিঞ্জার চলমান যুদ্ধ অব্যাহত রাখার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক করেন।

তিনি বলেন, রাশিয়া বিগত চারশো বছর ধরে ইউরোপের অংশ। ইউরোপের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাকারী শক্তি হিসেবে ভূমিকা রেখেছে রাশিয়া। পশ্চিমা দেশগুলোর উচিত হুজুগে গা না ভাসিয়ে ইউরোপে রাশিয়ার গুরুত্বের কথা মনে রাখা।

ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের কারণে চলতি বছরের ফোরামে রাশিয়ার প্রতিনিধিদের অংশ নিতে দেয়নি ডব্লিউইএফ। হেনরি কিসিঞ্জারের বক্তব্যে মস্কোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা কিসিঞ্জারের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন।

ইউক্রেনের এমপি ওলেক্সি গনশারেঙ্কো বলেন, আমার ধারণা কিসিঞ্জার এখনো বিশ শতকে বাস করছেন। অথচ আমরা একুশ শতকে চলে এসেছি। আমরা রাশিয়াকে এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড়ব না। কারণ এভাবে ছেড়ে দিলে সেটা হবে পুতিনের জন্য সবচেয়ে খারাপ সংকেত।

কিসিঞ্জারের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা বলেন, আমি হেনরি কিসিঞ্জারকে সম্মান করি। তবে আমি জানি যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো পদে অবস্থান করছেন না। তিনি ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করতে পারেন। তবে আমরা তার বক্তব্যের সঙ্গে জোরালোভাবে দ্বিমত পোষণ করছি।

নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুত বলেছেন, হেনরি কিসিঞ্জারের কথায় দ্বিমত পোষণ করা অসম্ভব। তবে এক্ষেত্রে আমাকে বলতে হচ্ছে যে আমি তার বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করছি। আমাদের কাছে ইউক্রেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও তার টিম ঠিক করবে তারা কিভাবে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করতে চায়।