advertisement
আপনি পড়ছেন

পাকিস্তানে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে জোরদার আলোচনা চলছে। আগাম নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে তড়িঘড়ি করে ইভিএম ব্যবহার ও প্রবাসীদের ভোট বন্ধ করতে নির্বাচনী আইন সংস্কার করেছে ক্ষমতাসীন জোট। পিটিআই নেতা ইমরান খান নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার জন্য সময় বেঁধে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনী আইনে এসব পরিবর্তন আনা হলো।

imran khan long march twsdনির্বাচনের তারিখ ঘোষণার জন্য ছয়দিনের সময় বেঁধে দিয়ে সকালে আকষ্মিকভাবে লং মার্চ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়

নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার বন্ধ ও প্রবাসী পাকিস্তানিদের ভোট দেওয়ার অধিকার রদ করতে আজ দুপুরে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে একটি বিল উপস্থাপন করে ক্ষমতাসীন জোট। পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী মুরতাজা জাভেদ আব্বাসি বিলটি উপস্থাপন করলে তাৎক্ষণিকভাবে তা কন্ঠভোটে অনুমোদন করা হয়।

বিলটি উপস্থাপনের আগে সেটি স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলোকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে পাঠানোর জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন মুরতাজা আব্বাসী। এ প্রস্তাবটিও তৎক্ষণাৎ কন্ঠভোটে পাশ হয়। এরপর নির্বাচনী আইন সংস্কার বিল উপস্থাপন করা হয়। নিম্নকক্ষে অনুমোদন পাওয়ায় আগামীকাল বিলটি সিনেটে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

পাকিস্তানি সাংবাদিকরা জানান, পাঁচ মিনিটের কম সময়ে পার্লামেন্টে নির্বাচনী আইন সংস্কার বিল পাশ হয়। ইমরান খানের দল বিষয়টির কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।

পিটিআই নেতা শাহবাজ গিল বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৭ সালে পিটিআই সরকার তাদের ভোটাধিকার দিতে আইন পাশ করে। যাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে, পিটিআই তাদের অধিকার হরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

ক্ষমতায় আসার পর আবারও প্রবাসীদের ভোটাধিকারের আইন পাশ করার আভাস দিয়ে পিটিআইর আরেক নেতা আযম জামিল বলেছেন, পাঁচ মিনিটে যে আইন পাশ হয়, তা আবার পাঁচ মিনিটে রদও করা যায়।

প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১৭ সালে প্রবাসী পাকিস্তানিদের ভোটাধিকারের বিধান রেখে আইন পাশ করে পিটিআই। পিটিআইর ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত প্রবাসী পাকিস্তানিরা ভোট দিতে পারলে ইমরান খানের দলের সঙ্গে অন্যদের ব্যবধান আরও বড় হবে বলে আশঙ্কা করছে ক্ষমতাসীন জোটের একাংশ।

এদিকে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন জোট এমন তড়িঘড়ি করে আইন পাশের পর দেশটিতে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে কানাঘুঁষা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন জোটের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইভিএম ও প্রবাসী বন্ধের বিলটি সিনেটে পাশ হবার পর কয়েকদিনের মধ্যে সরকার জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদগুলো ভেঙে দেবে। এরপর সাবেক অর্থমন্ত্রী হাফিজ শেখের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে।

সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আগামী অর্থবছরের বাজেট পাশ করবে। নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন জোট আর্থিক বিষয়াদিতে অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে চায় না বলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপর বাজেট প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে সকালে পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খান নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার জন্য সরকারকে ছয়দিনের সময় বেঁধে দিয়ে লং মার্চ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। বহুল আলোচিত এবং বহু বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে ইসলামাবাদে পৌঁছা লং মার্চের আকষ্মিক সমাপ্তি ঘোষণার পর থেকেই অনেকে আগাম নির্বাচন নিয়ে কথাবার্তা বলতে থাকেন।