advertisement
আপনি পড়ছেন

কৌশলগত বিচারে গুরুত্বপূর্ণ শহর সিভিয়ারোডোনেৎস্ক থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে হটিয়ে গতকাল রাতে শহরটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রুশ বাহিনী। একইসঙ্গে সেভেরস্কি দোনেৎস নদীর পাড়ের শিল্পাঞ্চল এবং ভোরোনোভো, বরভোস্কায়া ও সিরোতিনো এলাকাও রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে গেছে। এরপর আজ সকালে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বিমান বাহিনী।

kiev missile twsd রোববার সকালে কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার বিমান বাহিনী

কিয়েভের কয়েকটি আবাসিক ভবনে রুশ বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। সেদেশের এমপি কিরা রুডিক বলেছেন, আজ সকালে কিয়েভের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় অন্তত ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়। এর ফলে কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। স্থানীয় অধিবাসীরা ধ্বংসস্তুপ থেকে আহতদের সরিয়ে নিতে কাজ করছেন।

অন্যদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, কিয়েভের কয়েকটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সকালে রাশিয়ার বিমান বাহিনী ৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে একটি ছিল ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর আরতিউম সমরাস্ত্র কারখানা, যেখানে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হতো। অভিযানের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।

এর আগে গতকাল রাতে সিভিয়ারোডানেৎস্ক শহরের প্রান্তসীমায় অবস্থানরত ইউক্রেনীয় সৈন্যরা রুশ আক্রমণের মুখে নৌকায় চড়ে সেভেরস্কি দোনেৎস নদীর অন্য পাড়ে সরে গেছে। এতে করে টানা কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধ শেষে অবশেষে রুশ বাহিনী শহরটিতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছে। সিভিয়ারোডোনেৎস্কের পর এবার লিসিচানস্ক শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রুশ ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে বলে জানিয়েছে আমেরিকান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার।

রুশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, সিভিয়ারোডোনেৎস্ক এবং আশেপাশের ভোরোনোভো, বরভোস্কায়া, সিরোতিনো এলাকাসহ সেভেরস্কি দোনেৎস এক পাড় এখন সম্পূর্ণভাবে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আযত কেমিক্যাল কারখানায় জিম্মি হওয়া বেসামরিক নাগরিকদেরও উদ্ধার করা হয়েছে।

খবরে প্রকাশ, লিসিচানস্ক শহরের কয়েকটি খনি ও কারখানার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রুশ বাহিনী। শহরের তেল শোধনাগারের বাইরে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এছাড়া বেলায়া গোরা ও প্রিভিলোয়ি আবাসিক এলাকাতেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

লিসিচানস্ক-আরতেমোভস্ক মহাসড়কের বেশিরভাগ অংশ রুশ বাহিনীর দখলে গেলেও কিছু কিছু জায়গায় ইউক্রেনীয় বাহিনী শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। গোরোস্কো ও জোলোতি শহরে অবস্থানরত ইউক্রেনীয় সৈন্যদের নিরাপদ প্রস্থানের জন্য মহাসড়কটির কিছু অংশ রুশ বাহিনীর দখলমুক্ত রাখা জরুরি। অন্যথায় দুই শহরে মোতায়েন প্রায় পাঁচ হাজার ইউক্রেনীয় সৈন্য রুশদের হাতে পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে।

দোনেৎস্ক ফ্রন্টে আরতেমোভস্ক-লিসিচানস্ক মহাসড়কের পাশের দুটি শহর বেরেস্তোভোয়ি ও বেলগোরোভকার দখল নিয়ে দুই পক্ষের লড়াই চলছে। এছাড়া যভেলোদারস্ক ও নভোলুগানস্কের দখল নিতে রুশ বাহিনীর চেষ্টা এখনো সাফল্যের মুখ দেখেনি। উগলেগোরস্ক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের দখল নিতে চেষ্টা করছে রুশ বাহিনী, কিন্তু ইউক্রেনীয় সৈন্যরা এখনো তাদের ঠেকিয়ে রাখতে সমর্থ হয়েছে।

খারকিভ ফ্রন্টে রুশ বাহিনী গত মে মাসে ইউক্রেনীয়দের পাল্টা আক্রমণের মুখে হাতছাড়া হওয়া এলাকাগুলো পুনর্দখলের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। উডা, সুপভকা, দেমেনতিয়েভা ও আপার সালটভ এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণ চলছে। একইরকম গোলা বিনিময় চলছে ইজিউম-স্লাভিক ফ্রন্টের ক্রাসনোপোলিয়ে, পৃশিব, বোগোরোদিশনি ও সিদোরভো অঞ্চলে।