advertisement
আপনি পড়ছেন

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে আল আকসা মসজিদ সংলগ্ন জমির মালিকানা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইসরায়েল। এই প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়। এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেছে অধিকার গোষ্ঠীগুলো। তাদের বক্তব্য, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজটি শত শত ফিলিস্তিনির বসবাসের ক্ষেত্রে হুমকি এবং যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূচনা করতে পারে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

al aqsa 3জেরুজালেমে সংঘাতের শঙ্কা

ইসরায়েলের বিচার মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে আবু থর এলাকায় এবং আল আকসা মসজিদের দক্ষিণ প্রাচীর সংলগ্ন উমাইয়াদ প্রাসাদ সাইটে ‘জমি নিবন্ধন নিষ্পত্তি’ কার্যক্রম শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়াটি শহরের ফিলিস্তিনিদের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। কাজটি ইহুদিদের ভাল ভবিষ্যত সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যাতে ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারি তহবিল।

গত সোমবার ইসরায়েলি অধিকার গোষ্ঠী ইর আমিম ও বিমকমের যৌথ বিবৃতি অনুসারে, তহবিলটি মূলত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি স্থাপনের জন্য জমি নিবন্ধন করতে ব্যবহৃত হচ্ছে। শেষপর্যন্ত এটি ফিলিস্তিনিদের ভূমি আরও বেশি দখলের দিকে নিয়ে যাবে এবং দুপক্ষের মধ্যে গুরুতর দূরত্ব হবে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পদক্ষেপটি আবু থরের শত শত ফিলিস্তিনি বাড়ির জন্য সম্ভাব্য বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া জমিগুলো আল আকসার নিকটবর্তী অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থানের কারণে উত্তেজনা বৃদ্ধির তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হতে পারে যেকোনো সময়।

ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ-এর মতে, নিবন্ধন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হলো, যে এলাকায় নিবন্ধন করা হচ্ছে সেখানকার জমির মালিকানা দাবিকারী এমন কাউকে পাবলিক নোটিশ জারি করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় জমির মালিকানার দাবিকারীদের মালিকানার উপযুক্ত প্রমাণ দিতে হবে।

কিন্তু জেরুজালেমের বেশিরভাগ ফিলিস্তিনিরা সহযোগিতা করতে অস্বীকার করেছে। তাদের ভয়, এসব অনিবন্ধিত সম্পত্তির মালিকানা জোর করে ইসরায়েলি সরকার নিজেদের অনুকূলে প্রমাণ করবে। দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের প্রায় ৯০ শতাংশ জমি এখন অনিবন্ধিত। কারণ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ১৯৬৭ সালে শহরটি দখল করার পরে নিবন্ধন বন্ধ করে দেয়।