advertisement
আপনি পড়ছেন

মিশরের রাজধানী কায়রোর কেন্দ্রস্থলে নীল নদের বিখ্যাত হাউসবোটগুলো সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এসব হাউসবোটের কোনো লাইসেন্স নেই। ফলে সরকারি নির্দেশে সেগুলো সরিয়ে নিচ্ছে মালিকরা। গত সপ্তাহে প্রায় ৩০টি হাউসবোটের মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, অবৈধ এসব বোটগুলো সরিয়ে না ফেললে জব্দ করা হবে। খবর দ্য পেনিনসুলা।

outcry in egypt as historic nile houseboats are demolishedনীল নদের ঐতিহ্যবাহী হাউসবোট উচ্ছেদ, মিশরে হৈচৈ

নৌকাগুলো বেশ আরামদায়ক, বারান্দাসহ মার্জিত দ্বিতল কাঠামো। মধ্য কায়রোর ঠিক পশ্চিমে জামালেক এবং গিজার দ্বীপের মধ্যে নীল নদের বৃক্ষ-রেখাযুক্ত তীরে কয়েক দশক ধরে হাউসবোটের কার্যক্রম চলছিল। এসব নৌকায় এড্রিফট অন দ্য নাইল চলচ্চিত্রের শুটিং হয়েছে, যেটি লিখেছিলেন নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক নাগিব মাহফুজ।

মিশরের পানি ও সেচ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ১৫টি হাউসবোট অপসারণ করা হয়েছে। বাকিগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। নৌকাগুলো ভেঙে ফেলা এবং টাগ দিয়ে টানা হচ্ছে এমন ছবি পোস্ট করেছে মন্ত্রণালয়।

সরকারের এমন পদক্ষেপে বোটের মালিকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বড় আকারের বিনিয়োগ করেছেন।

একটি হাউসবোটের মালিক মালিক ইখলাস হেলমি বলেন, আমার হাউসবোট বুধবারও দাঁড়িয়ে ছিল। আমি জীবনের সব সঞ্চয় এতে বিনিয়োগ করেছি। নৌকা সরিয়ে নিলে আমার জীবনে দুর্বিষহ যন্ত্রণা নেমে আসবে। আমি এই হাউসবোটে জন্মেছি এবং আমার পুরো জীবন এতেই কাটিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী আমার মতো নীল নদকেও ভালোবাসতেন। হাউসবোটটি সংস্কার করার আগেই তিনি মারা যান। এরপর থেকে আমিই পরিচালনা করে আসছি। এটাই আমার একমাত্র অবলম্বন।

কর্তৃপক্ষ বলছে মালিকদের আগেই সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল। নদী রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাণিজ্য ও পর্যটনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যমকে নীল নদ সুরক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আয়মান আনোয়ার বলেন, হাউসবোটগুলো দূষণকারী পুরোনো গাড়ির মতো। এগুলো নদী দূষণ করছে।

মালিকরা বলছেন, তারা নৌচলাচল অব্যাহত রাখতে আইন অনুযায়ী অন্যান্য ফি প্রদান অব্যাহত রেখেছিলেন। তাদের অভিযোগ, নৌকা অপসারণের মাধ্যমে রাজধানীর সৌন্দর্য বা এতিহ্যবাহী স্থানগুলোকে নষ্ট করা হচ্ছে।

নৌকাগুলো সরিয়ে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা কী, তা পরিষ্কার করেননি কর্মকর্তারা। অবশ্য সামরিক বাহিনী নদীর তীরজুড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করেছে।

আহমেদ এল-হোসেইনির হাউসবোট মঙ্গলবার উচ্ছেদ করা হয়। তিনি ঘটনার বর্ণনা দিতে দিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আমাদের গল্প, আমাদের ইতিহাস, আমাদের হৃদয়, আমাদের স্মৃতি এবং আমাদের অনুভূতি সব শেষ হয়ে গেল। এসবের এখন আর কোনো মূল্য নেই।