advertisement
আপনি পড়ছেন

সুদান-ইথিওপিয়া সীমান্ত অশান্ত হয়ে উঠেছে। সুদানের সশস্ত্র বাহিনী পূর্বাঞ্চলের ইথিওপিয়া সীমান্তে ভারি কামান ছুঁড়েছে। ইথিওপিয়ান এক কর্মকর্তা বলেছেন, আল ফাশাগা সীমান্তে দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্ব রয়েছে দুই দেশের মধ্যে। সবশেষ সংঘর্ষে সুদান ভারী কামান দেগেছে। টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

sudan army hamdakসুদানের সেনাবাহিনী, ফাইল ছবি

সুদানের অভিযোগ, ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনী সুদানের সাতজন সেনা ও একজন বেসামরিক লোককে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে। সুদান ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ইথিওপিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও অভিযোগ দিয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইথিওপিয়া।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুদানের একটি সামরিক সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহে সুদান ওই সীমান্তে আর্টিলারি ও বিমান হামলা চালায় এবং সীমান্তের কাছাকাছি এলাকা জাবাল কালা আল লাবান দখল করতে সক্ষম হয়। গত সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সুদানের সেনাবাহিনী দূরপাল্লার আর্টিলারি হামলা চালায়। তবে কেউ হতাহত হয়নি। ইথিওপিয়ার আমহারা অঞ্চলের সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা আসেফা আশেগে এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুই স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, সুদানের সেনাবাহিনী জাবাল কালা আল লাবানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং সেখানকার একটি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করেছে। ঘাঁটিটি ইথিওপিয়ান সেনাবাহিনীর নাকি মিত্রবাহিনীর ছিল তা স্পষ্ট নয়। সুদানের সামরিক মুখপাত্র কিংবা ইথিওপিয়ার সরকারের মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

শান্তির আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ: জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেছেন, জাতিসংঘ বিতর্কিত সীমান্তটিতে নতুন করে সংঘর্ষের বিষয়ে উদ্বিগ্ন। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দুই দেশকে উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং আল ফাশাগা সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের মতপার্থক্য দূর করে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল ফাশাগা সীমান্ত যে কারণে বিরোধপূর্ণ: ইথিওপিয়ার নিকটবর্তী আল ফাশাগা সীমান্ত নিয়ে খার্তুম এবং আদ্দিস আবাবার মধ্যে খারাপ সম্পর্ক বিরাজ করছে। আইনগতভাবে অঞ্চলটি ইথিওপিয়ার কৃষকরা দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহার করে আসছে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তিও ছিল।

২০১৪ সাল থেকে সীমান্তটিতে পর্যায়ক্রমিক সংঘর্ষ এবং হামলা-পাল্টা হামলা চলছে। শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালের নভেম্বরে সুদানী সৈন্য মোতায়েন করায় চুক্তিটি ভেঙ্গে যায়। আল ফাশাগা বিবাদের নেপথ্যে মূলত নীল নদের ওপর ইথিওপিয়ার মেগা বাঁধ নির্মাণ। মিশরসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ওই বাঁধের বিরোধিতা করে আসছে।