advertisement
আপনি পড়ছেন

শুরু হয়েছে হজের মৌসুম। পবিত্র জিলহজের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র হজ। তাতে অংশ নেবেন ব্রিটিশ নাগরিক আদম মোহাম্মদ। দীর্ঘ ১১ মাসে ৯টি দেশের সাড়ে ৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি মক্কায় পৌঁছেছেন। খবর ডেইলি সাবাহ।

adam mohammadমক্কার পথে আদম মোহাম্মদ

খবরে বলা হয়, ৫২ বছর বয়সী ব্রিটিশ হজযাত্রী আদম মোহাম্মদ গত রোববার মক্কার আয়েশা (রা.) মসজিদে এসে পৌঁছান। তিনি অন্যান্য হজযাত্রীদের মতো বিমানে করে মক্কায় পৌঁছাননি বরং পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন সাড়ে ৬ হাজার কিলোমিটার! স্থানীয়রা এ সময় তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা দেন। 

আদম মোহাম্মদ বলেন, ২৫ বছর ধরে ব্রিটেনে বাস করছি। করোনার সময় অন্যদের মতো আমিও ঘরবন্দী হয়ে পড়ি। সময় কাটাতাম কোরআন তেলাওয়াত করে। এভাবেই কেটে যায় দেড় বছর। একদিন হঠাৎ করে ঘুম ভেঙে গেলে আমি নিজের মধ্যে ভিন্ন এক অনুভূতি আবিষ্কার করি। আমার মনে হয়, কেউ আমাকে নির্দেশ দিচ্ছে, আমি যেন পায়ে হেঁটে হজ করতে যাই। বিষয়টি নিয়ে আমার ভেতরে তোলপাড় শুরু হয়।

adam mohammad carযাত্রাপথে এই গাড়িই সঙ্গী ছিল আদম মোহাম্মদের

বিষয়টি নিয়ে ভাবতে বসেন আদম মোহাম্মদ। দীর্ঘ পথ, তাই দীর্ঘ সময়েরও দরকার। এ কারণে প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় পাননি তিনি। মাত্র দুই মাস সময় নিয়েই বেরিয়ে পড়েন। নিজের সব ধরনের প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রায় ২৫০ কেজি ওজনের তিন চাকার ট্রলি সঙ্গে নেন। এখানেই তিনি বিশ্রাম নিতেন এবং প্রয়োজনীয় সব জিনিস রাখতেন।

আদম মোহাম্মদের এ যাত্রায় অবশ্য ব্রিটিশ একটি সংস্থা তাকে নানাভাবে সাহায্য করে। পুরো সফরে ছোটখাটো কিছু সমস্যার মুখে পড়লে উল্লেখ করার মতো কোনো বড় সমস্যা হয়নি। একেক দেশে প্রবেশের বেলায় স্থানীয় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কিন্তু কেউই বাধা দেননি বরং সবাই তার সাহায্যে এগিয়ে আসে।

সফরের কথা বলতে গিয়ে আদম জানান, ২০২১ সালের ১ আগস্ট তিনি ব্রিটেনের উলভারহ্যাম্পটন শহরের নিজ বাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করেন। মক্কায় পৌঁছার পথে তিনি অতিক্রম করেন সাড়ে ছয় হাজার কিলোমিটার পথ। শুরুর ব্রিটেন এবং শেষের সৌদি আরব ছাড়াও নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, তুরস্ক, সিরিয়া ও জর্ডান পাড়ি দেন তিনি। এতে তার সময় লাগে ১০ মাস ২৬ দিন। দীর্ঘ এই ভ্রমণের নাম দিয়েছেন ‘দ্য পিস জার্নি’ বা শান্তিভ্রমণ।

দীর্ঘ ১১ মাসের সফর শেষে সুস্থভাবে মক্কায় পৌঁছাতে পেরে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন, হজ পালন আমার জীবনের বড় ইচ্ছাগুলোর অন্যতম। তা পূরণ হচ্ছে দেখে আমি আনন্দিত। এ দীর্ঘ পথে যারা তাকে সাহায্য করেছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।