advertisement
আপনি পড়ছেন

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে যে হানাহানি চলছে তার সবকিছুর জন্য মহানবীর (স.) প্রতি কটুক্তিকারী বিজেপির সাবেক মুখপাত্র নূপুর শর্মা এককভাবে দায়ী বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। নূপুর শর্মা ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলেও আদালত মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে আদালত সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প ছড়ানোর জন্য টাইমস নাও টেলিভিশন চ্যানেলের সঞ্চালক নভীকা কুমারকে তিরস্কার করেছেন।

sci twsd ভারতের সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ নূপুর শর্মাকে কঠোর ভাষায় তিরস্কার করেন

মহানবী (স.) এর নামে কটুক্তি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে নূপুর শর্মার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনটি এজাহারকে একত্র করে একসঙ্গে বিচারের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন নূপুর শর্মা।

আবেদনের শুনানি করতে গিয়ে বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালাকে নিয়ে গঠিত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ টেলিভিশনে মহানবীকে (স.) নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের জন্য নূপুর শর্মাকে কঠোর ভাষায় তিরস্কার করেন। আপত্তিকর ওই মন্তব্যের পর মানুষের ক্ষোভের মুখে নূপুর শর্মা দুঃখ প্রকাশ করে যে বিবৃতি দিয়েছেন সেটাও ‘শর্তমূলক’ বলে আদালত উল্লেখ করেন।

আদালত বলেন, ‘নূপুর শর্মার এ ধরনের মন্তব্য করার কি দরকার ছিল? যেভাবে তিনি সারাদেশে মানুষের আবেগ উসকে দিয়েছেন.. এখন দেশে যা কিছু হচ্ছে তার জন্য এককভাবে এই নারী দায়ী।’

নূপুর শর্মার মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে গিয়ে ভারতের বিভিন্ন শহরে পুলিশের গুলিতে কমপক্ষে দুইজন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। পুলিশের হাতে আটক ও গ্রেপ্তার হয়েছে পাঁচ শতাধিক মানুষ।

বিক্ষোভে সহিংসতার অভিযোগ তুলে কয়েকজন মুসলিম সংগঠকের বাসভবন ভেঙ্গে দিয়ে তাদের পরিবারকে উচ্ছেদ করেছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ। ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্রের এমন হীন মন্তব্যের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় ভারত সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবেও নাজেহাল হতে হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতদের তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার অন্তত ১৬টি দেশ।

নূপুর শর্মার মন্তব্যের ভিডিও ফুটেজ টুইটারে পোস্ট করে বিষয়টি সবার দৃষ্টিগোচরে আনা সাংবাদিক মোহাম্মদ জুবায়েরকে মঙ্গলবার একটি ভিত্তিহীন অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরদিন বুধবার নূপুর শর্মার পক্ষে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে কানহাইয়া লাল নামে এক দরজিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে রাজস্থানের উদয়পুরে।

উদয়পুর হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে আদালত বলেন, পরিণতির কথা চিন্তা না করেই নূপুর শর্মার নিয়ন্ত্রণহীন জিহ্বা থেকে বের হওয়া দায়িত্বহীন মন্তব্য এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

নূপুর শর্মার আইনজীবী সিনিয়র এডভোকেট মনীন্দর সিং আদালতকে জানান, তার মক্কেল নিজের মন্তব্যের জন্য লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন।

আদালত তখন বলেন, তার (নূপুর) উচিত ছিল টেলিভিশনে গিয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া। তিনি যে দুঃখপ্রকাশ করেছেন সেটা যথেষ্ট দেরি হবার পর করেছেন। আবার তার দুঃখপ্রকাশের ভাষাও ছিল শর্তমূলক, ‘কারো অনুভূতিতে আঘাত লাগলে’ দুঃখপ্রকাশের কথা বলেছেন। তার উচিত ছিল নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাওয়া।

আদালত আরও বলেন, কোনো দলের মুখপাত্র হবার অর্থ এই নয় যে মুখে যা আসে তা বলতে পারবেন। এরা মোটেই ধার্মিক মানুষ নয়। এরা শুধু উসকানি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কথা বলে।

নিম্ন আদালতকে পাশ কাটিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করায় নূপুর শর্মার সমালোচনা করে আদালত বলেন, এ পিটিশন তার ঔদ্ধত্যের প্রকাশ। ভাবখানা এমন যেন দেশের ম্যাজিস্ট্রেটরা তার মতো মানুষের আবেদন বিবেচনার যোগ্যতা রাখেন না। এফআইআর নিবন্ধনের পরও কেউ গ্রেপ্তার না হলে তার ক্ষমতা প্রকাশ পায়। তার ধারণা তার পক্ষে ক্ষমতা আছে এবং এ কারণে দায়িত্বহীন কথাবার্তা বলাই যায়।

গত ২৭ মে বারানসীর জ্ঞানবাপি মসজিদ নিয়ে বিজেপি মুখপাত্র হিসেবে টাইমস নাও চ্যানেলে এক টক শোতে মহানবীকে (স.) নিয়ে চরম আপত্তিকর মন্তব্য করেন নূপুর শর্মা।

টাইমস নাও চ্যানেলের সমালোচনা করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেন, বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিতর্ক করার কোনো এখতিয়ার ওই চ্যানেলের নেই, যদি না তারা বিশেষ কোনো এজেন্ডা এগিয়ে নিতে চায়। বিতর্কে অংশ নিতে গিয়ে উত্তেজিত হয়ে ওইসব আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে দাবি করেছেন নূপুর শর্মা। বিতর্কে অংশ নিতে গিয়ে উত্তেজিত হলে তার উচিত ছিল ওই অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের বিরুদ্ধে এফআইআর করা।

শুনানি শেষে আদালত নূপুর শর্মার আবেদন নাকচ করে দিয়ে তাকে হাই কোর্টে যেতে বলেন।