আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 20 মিনিট আগে

গোসল না করে আপনি কত দিন থাকতে পারবেন? গ্রীষ্ম প্রধান দেশের মানুষ দিনে একাধিকবার গোসল করে। শীত প্রধান দেশের মানুষ দিনে অন্তত একবার গোসল করে। টানা কয়েক দিন গোসল না করলেই শরীর দুর্গন্ধে ভরে যায়। চীনের অনেকে নাকি গোসল কম করে। তারা সপ্তাহে মাত্র একবার গোসল করে। শরীরের দুর্গন্ধ এড়াতে তারা কড়া পারফিউম ব্যবহার করতো। সপ্তাহ, মাস, বছর নয়; যুগের পর যুগ গোসল করেননি এমন একজনের খোঁজ পাওয়া গেছে এবার। টানা ৬০ বছর গোসল না করে তিনি হয়েছেন বিশ্বের নোংরাতম ব্যক্তি!

amu haji iran

টানা ৬০ বছর গোসল না করে কাটিয়ে দেয়া ওই ব্যক্তির নাম আমু হাজি। তিনি ইরানের দক্ষিণ ফারস জেলার একটি পরিত্যক্ত গ্রামে বসবাস করেন। ৮০ বছর বয়স্ক আমু হাজি সাবন-পানি একেবারেই সহ্য করতে পারেন না। গোসল শব্দটি শুনলেই নাকি তার কাছে পাগল পাগল লাগে। ইরানী সংবাদ মাধ্যম 'দ্য তেহরান টাইমস' জানিয়েছে দেশটির ফারস জেলার একটি পরিত্যক্ত গ্রামের নাম দেজগা। দেজাগার মাঠে-ঘাটে ঘুরে বেড়ান তিনি। যেখানে রাত সেখানেই কাত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। প্রকৃতিই তার কাছে খোলা বিছানা।

গ্রামের মানুষ ইট বিছিয়ে তার ঘুমানোর একটা ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তিনি সেখানে মন চাইলে মাঝে মধ্যে ঘুমান। আরেকটি বিষয় হলো চুল-দাড়ি বেশি বড় হয়ে গেলে তা কাটার কোন লক্ষণ নেই তার। তবে মাঝে মধ্যে তিনি আগুনে পুড়িয়ে তা ছোট করে নেন। নখ সময় গেলে বড় হয় আবার কোথাও লেগে ভেঙ্গে যায়।

amu haji iran2

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে দ্য তেহরান টাইমস জানায়, ধুলো-বালি পড়তে পড়তে তার শরীরে থাকা ময়লাগুলো শক্ত হয়ে গেছে। তার শরীরে প্রাকৃতিক পাথর লেগে আছে এমন মনে হয়।

আমু হাজির জীবনটা এমন ছিল না। তিনি ২০ বছর পর্যন্ত খুবই চঞ্চল ছিলেন। জীবন ছিল তার রঙিন। একজনকে ভালও বাসতেন। কিন্তু হঠাৎ করে তার ভালবাসায় আঘাত আসে। তখন থেকেই অগোছালো জীবন শুরু আমু হাজির। উদাসীন হয়ে সারাদিন পড়ে থাকতেন। খাওয়া-দাওয়া, গোসল কোনটাতেই তার খেয়াল ছিল না। আস্তে আস্তে তিনি সমাজ থেকে ছিটকে পড়েন। বাংলার দেবদাসের মত করে এক করুণ মৃত্যুর জন্য তিনি অপেক্ষা করেন। তবে কখনো আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেননি।

বর্তমানে আমু হাজির আপন বলতে পৃথিবীতে কেউ নেই। আসলেই নেই, নাকি আত্মীয় স্বজনরা আমুর পরিচয় দিতে চাচ্ছে না তা জানা যায়নি। আমু এখন প্রকৃতির মানুষ। চোখের সামনে যা পড়ে তাই খেয়ে বাঁচে থাকেন। 

amu haji iran3

ফ্যাল-ফেলিয়ে তাকিয়ে থেকে তিনি কি যেন দেখার চেষ্টা করেন অদৃষ্টে। হয়ত বিশ বছর আগের সেই রঙিন দিনের হারানো স্মৃতি চোখের সামনে দেখতে পান। বুকের মধ্যে মৃত নদীর হাহাকার বয়ে বেড়ানো আমুকে এখন অনেকেই পাগল ভাবতে শুরু করে দিয়েছে। যদিও আদতে তিনি তা নন।

Add comment

Security code
Refresh