আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 52 মিনিট আগে

ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রে মাদ্রাসাছাত্রীর গায়ে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন জানায়, সোমবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে ওই ছাত্রীর ভাই মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত চারজনকে আসামী করা হয়েছে।

feni girl fair 1

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অজ্ঞাত চারজন আসামী ও তাদের সঙ্গীরা হত্যার উদ্দেশ্যে ওই ছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়েছে।

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

এদিকে আগুনে দগ্ধ ওই মাদ্রাসা ছাত্রী জীবন-মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের লাইফ সাপোর্টে ভর্তি করা হয়।

বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘রোগীর অবস্থা ভালো নয়। গতকাল থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। সেজন্য তাকে লাইফ সাপোর্টে নিয়েছি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’

তার শ্বাসনালী পুড়ে গেছে উল্লেখ করে ডা. সেমন্ত লাল বলেন, তার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে। দগ্ধ হওয়ার সাথে সাথে তাকে বার্ন ইউনিটে আনা হলে হয়তো ভালো কোনো খবর দেয়া যেতো।

এদিকে, দগ্ধ শিক্ষার্থীর স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে ঢাকা মেডিকেল।

মেয়েটির ভাই রাশেদুল হাসান বলেন, সকাল সাড়ে ৯টায় আমি ও আমার মা ওকে আইসিইউতে দেখতে যাই। ও আমাকে বলে, ‘ভাই আমার যা কিছু হয় হয়ে যাক প্রিন্সিপাল সিরাজ উদদৌলা ও তার সহযোগী যারা আমার গায়ে আগুন দিয়েছে তাদের যেন বিচার হয়।’

‘ভাই, ভাই আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমাকে বাঁচাও, আমার যদি এখানে চিকিৎসা ঠিক মতো না হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে আমাকে দেশের বাইরে নিয়ে চলো।’

ওর শ্বাসকষ্ট হওয়ায় এরপর আর কোনো কথা বলতে পারেনি বলেও জানান রাশেদুল।

প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে ফেনীর সোনাগাজীতে ইসলামিয়া সিনিয়ার ফাজিল মাদ্রাসায় ওই ছাত্রীয় গায়ে আগুন দিয়ে তাকে হত্যা চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। পরিবারের অভিযোগ, পরিক্ষার কেন্দ্র থেকে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকা পড়া নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে ছাদে নিয়ে তার শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয়।