নির্বাচনী দৌড়ে ১০৭ নারী: এগিয়ে ছোট ও বামপন্থী দল
- Details
- by ২৪ ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে সংস্কার ও পরিবর্তনের কথা বলা হলেও নারী প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন সামান্যই। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এবারের নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণের হার খুবই নগণ্য। মোট প্রার্থীর বিপরীতে নারী প্রার্থীর হার মাত্র ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ২ হাজার ৫৬৯ জন প্রার্থীর মধ্যে নারীর সংখ্যা মাত্র ১০৮ জন। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে কার্যত এই সংখ্যা এখন ১০৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

এবার দলীয় মনোনয়নের চেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করার প্রবণতা নারী প্রার্থীদের মধ্যে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মোট নারী প্রার্থীর এক–তৃতীয়াংশেরও বেশি, অর্থাৎ ৪০ জনই স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনীতির মাঠে নারীদের আগ্রহের কমতি নেই, বরং বড় দলগুলোর পক্ষ থেকে মনোনয়ন না পাওয়ার কারণেই তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছেন। যাচাই–বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করলে এই সংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন পরিচিত মুখও রয়েছেন, যারা রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করছেন। এর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে বিএনপি তাদের জোটের শরিক দলকে ছাড় দেওয়ায় রুমিন ফারহানা দলীয় টিকিট পাননি। ফলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এবং এর জেরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক তরুণ নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট গঠনের ঠিক আগমুহূর্তে তিনি দল ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি তুলনামূলকভাবে বেশি নারী প্রার্থী দিলেও তা খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। দলটি ১৩টি আসনে মোট ১০ জন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে। এর মধ্যে সদ্যপ্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে ওই আসনগুলোতে বিকল্প প্রার্থী দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যা নারী প্রার্থীর সংখ্যা আরও কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে দেশের অন্যতম প্রধান দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরাসরি নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। তবে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, তারা নিয়মানুযায়ী সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেবেন।
গত আগস্টে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন (এনসিসি) রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ‘জুলাই সনদ’-এর যে খসড়া পাঠিয়েছিল, সেখানে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ছিল। এতে বলা হয়েছিল, ৩০০ আসনের বিপরীতে দলগুলোকে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দিতে হবে। কিন্তু বিএনপি, জামায়াত বা জাতীয় পার্টির মতো বড় কোনো দলই এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। একমাত্র ব্যতিক্রম জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তরুণদের নেতৃত্বাধীন এই দলটি তাদের ৪৭ জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজন নারীকে মনোনয়ন দিয়ে ৬ শতাংশের বেশি হার অর্জন করেছে।
বড় দলগুলো পিছিয়ে থাকলেও বামপন্থী ও ছোট দলগুলো নারী মনোনয়নে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) ১০ জন এবং বাসদ ৪ জন নারী প্রার্থী দিয়েছে। এছাড়া ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ৬ জন করে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ব্যতিক্রমী অবস্থান নিয়েছে। দলটির দপ্তর সম্পাদক মাইনউদ্দিন টিটো বলেন, ‘আমরা মানবতার ভিত্তিতে গড়া একটি রাজনৈতিক দল। ধর্মের নামে দল হলেও রাষ্ট্র কোনো একক ধর্ম, জাতি বা লিঙ্গের নয়। রাষ্ট্র যেহেতু সবার, রাজনৈতিক দলকেও সবার প্রতিনিধিত্ব করতে হবে।’
অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) ৫ জন, গণসংহতি আন্দোলন ৪ জন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ৩ জন এবং গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) ৩ জন নারী প্রার্থী দিয়েছে। এছাড়া সাতটি নিবন্ধিত দল মাত্র একজন করে নারী প্রার্থী দিয়েছে, যা মানবাধিকার কর্মীদের মতে নিতান্তই প্রতীকী। ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহর ও আধা–শহরাঞ্চলেই নারী প্রার্থীদের উপস্থিতি বেশি। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি আসনে একাধিক নারী প্রার্থী থাকায় সেখানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পথে বাধা ও সীমাবদ্ধতার চিত্রটি বিগত নির্বাচনের পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট ছিল। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী ছিলেন এক হাজার ৯৬৯ জন, যার মধ্যে নারী ছিলেন ৯৬ জন। সেই হিসেবে এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা সামান্য বাড়লেও, মূলধারার রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.