advertisement
আপনি পড়ছেন

টাকা উত্তোলনের সময় একটি বানান ভুল দেখে ব্যাংক কর্মকর্তার সন্দেহ হলে তিনি তা খতিয়ে দেখতে যান। আর তাতেই বেড়িয়ে আসলো সংঘবদ্ধ হ্যাকার চক্র বাংলাদেশ ব্যাংকের খোয়া যাওয়া টাকা সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। তাও আবার ২ কোটি ডলার।

Bangladesh bank

২ কোটি ডলার পাচারের এই ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীলঙ্কায়। বানান ভুল দেখে প্রথমে শ্রীলঙ্কার ব্যাংক কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে সত্যতা মিললে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২ কোটি ডলার লোপাট হওয়া থেকে রক্ষা পায়। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বৃহস্পতিবার এই খবর প্রকাশ করেছে।

রয়টার্স প্রতিবেদনে বলেছে, শ্রীলঙ্কায় শালিকা ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিওর অ্যাকাউন্টে ২ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু হ্যাকার অর্ডারে foundation এর জায়গায় fandation লিখেছিল। তাতেই ব্যাংক কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। স্থানান্তর আটকে দেওয়া হয়। পরে যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকে। রয়টার্স অনুসন্ধান অনুযায়ি, শ্রীলঙ্কা সরকারের তালিকায় শালিকা ফাউন্ডেশন নামে কোনো এনজিও নেই। তাতে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, শ্রীলঙ্কার ব্যাংকে পাচার হওয়া ২০ মিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যে ফেরত পেয়েছি।  আমাদের অ্যাকাউন্টে এখনও জমা না হলেও প্রক্রিয়াধীন আছে। ফিলিপিন্সে যে অর্থ গেছে, তার একটি অংশ এখনও সেখানকার ব্যাংকে আছে। আর কিছু ব্যাংকের বাইরে চলে গেছে।

জানা যায়, শ্রীলঙ্কায় লোপাট হওয়া টাকা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা সরানোর চেষ্টা করেছিল। তবে শ্রীলঙ্কায় সফল না হলেও ফিলিপাইনে ৮ কোটি ডলার সরাতে সমর্থ হয়েছিল হ্যাকাররা। অর্থের আংশিক ইতোমধ্যে ব্যাংক চ্যানেলের বাইরে চলে গেছে।

ফিলিপাইনের সংবাদপত্র ‘দি ফিলিপিন্স ডেইলি ইনকোয়ারার’ জানায়, চীনা হ্যাকাররা এর সঙ্গে জড়িত। চীনা হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ১০১ কোটি ডলার লোপাট করেছিল।

গণমাধ্যম ইনকোয়ারার বলেছে, সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ সরানো হয়। প্রথম পর্যায়ে ফিলিপিন্স ও শ্রীলঙ্কার ব্যাংকে পাচার করা হয়। হ্যাকাররা একই সঙ্গে ফিলিপিন্সের একটি ব্যাংকের পাঁচটি অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছিল ৮ কোটি ডলার। পাচারকৃত অর্থ জুয়ার ক্যাসিনো হয়ে হংকংয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন রয়েছে ছয়জন।  ফিলিপিন্সের মুদ্রাপাচার প্রতিরোধ কর্তৃপক্ষ সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তদন্তে নেমেছে।


আপনি আরো পড়তে পারেন

মোজাম্মেল হক: যুদ্ধাপরাধীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া ভণ্ডামি

শাহ মোয়াজ্জেম: শাপলা চত্বরের নাম ‘শাহাদাত চত্বর’ রাখা হবে

সরকারি প্রথম শ্রেণির চাকরি নবম গ্রেড থেকে শুরু