advertisement
আপনি দেখছেন

রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্টামফোর্ডের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের এক যুবককে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটককৃত ওই যুবকের নাম আবদুর রহমান সৈকত। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর বিভাগের সাবেক ছাত্র। পুলিশ বলছে, সৈকত রুম্পার ‘ছেলে বন্ধু’।

rumpa dead report

আবদুর রহমান সৈকত ছাড়াও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরেকজনকে নিয়ে গেছে সিআইডি। তবে এ ব্যাপারে অফিসিয়ালি কেউ কোন মন্তব্য করেননি। ঢাকা মাহনগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র বলছে, শনিবার মিন্টু রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে ওই ছাত্রকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশ বলছে, যে ভবন থেকে রুম্পা পড়েছিল ওই ভবনেেই তৃতীয় তলায় ছাত্রদের একটি মেস রয়েছে। তবে ঘটনার পরপরই মেসটি বন্ধ পাওয়া যায়। পাশাপাশি ভিকটিমের ব্যবহার করা মোবাইল ফোনটিও জব্দ করা হয়েছে। রুম্পার মোবাইল থেকে একটি নম্বরে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার প্রমাণ মিলেছে। ওই সিমের মালিককে চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা চলছে।

তবে রুম্পার মৃত্যুর রহস্য এখনও অজানাই বলছে পুলিশ। হত্যা না আত্মহত্যা তা উদঘাটনে পিবিআই, ডিবি এবং সিআইডি পৃথকভাবে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। ঘটনাস্থলের পাশের সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডে ৬৪/৪ নম্বর বাড়ির সিসি টিভির ফুটেজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, রুম্পা বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে ভবনে প্রবেশ করেন এবং রাত পৌনে ১১টায় ভবন থেকে পড়ে যেতে দেখা গেছে।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে বলেন, তার মরদেহ দেখে মেনে হয়েছে ওপর থেকে পড়ে মারা গেছে। মারা যাওয়ার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না- সেটি নিশ্চিত হতে রুম্পার শরীর থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর একটি টিম। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা জানান, তার মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি সুইসাইড (আত্মহত্যা) করেছেন না হোমিসাইডাল (হত্যার শিকার) হয়েছেন সে বিষয়টি নিশ্চিত হতে কাজ করছি। দ্রুতই রহস্য উম্মোচিত হবে। 

প্রসঙ্গত, রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্টামফোর্ডের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার লাশ গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। তার বাবা মো. রুককুন উদ্দিন হবিগঞ্জ জেলার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক, মা নাহিদা আক্তার পারুল গৃহিণী। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে রুম্পা বড়। গত বুধবার টিউশনি শেষে বাসায় ফেরার পর রুম্পা বাইরে কাজ আছে বলে বের হন। এরপর আর বাসায় ফিরেননি। পরে বৃহস্পতিবার রুম্পার মা-সহ অন্যরা রমনা থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন।