advertisement
আপনি দেখছেন

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্মের মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ। তাকে আটকের পর র‌্যাব জানিয়েছে, গত তিন মাসে তিনি হোটেল বিল পরিশোধ করেছেন প্রায় ৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রতিদিন বারের বিল দিয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ টাকা। অথচ তার আয়কর ফাইলে বছরে আয় দেখানো হয়েছে ২২ লাখ টাকা।

shamima noor papiya

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওযান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল জানান, পাপিয়া ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে হোটেল ওয়েস্টিনের ২১ তলায় অবস্থিত প্রেসিডেন্ট কক্ষটি ভাড়া নেন। তিনি গত তিন মাসে কক্ষটির ভাড়া বাবদ পরিশোধ করেছেন প্রায় ৮৮ লাখ টাকা।

ওই হোটেলের ১৯ তলায় থাকা বার প্রায় পুরোটাই বুক করে নিতেন পাপিয়া। সেখানে প্রতিদিন মদের বিল পরিশোধ করতেন আড়াই লাখ টাকা। গত তিন মাসে সব মিলিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৩ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করেছেন তিনি।

র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সম্প্রতি রাজধানী থেকে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও ডলারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- শামীমা নুর পাপিয়া (২৮), তার স্বামী মফিজুর রহমান (৩৮), মফিজুরের পিএস সাব্বির খন্দকার (২৯) ও পাপিয়ার পিএস শেখ তায়্যিবা (২২)। অবৈধ অর্থপাচার, জাল টাকার কারবার, মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারক চক্রটির দুই সদস্য মফিজুর ও সাব্বিরকে নয়াদিল্লি যাওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন গেট থেকে আটক করা হয়। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিন থেকে পাপিয়া ও তায়্যিবাকে আটক করা হয়। তাদের অর্থপাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, পাপিয়ার আয়কর ফাইলে বছরে আয় দেখানো হয়েছে ২২ লাখ টাকা। কিন্তু গত তিন মাসে তিনি হোটেল বিল পরিশোধ করেছেন প্রায় তিন কোটি টাকা। এই টাকার উৎসের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া জানিয়েছেন, হোটেলে আসা লোকদের কাছে মেয়ে সরবরাহ করতে তিনি। হোটেলে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে ওই ব্যক্তিদের ব্লাকমেইল করে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হতো।

পাপিয়ার এ অপকর্মে জড়িত থাকা সাতজন উঠতি বয়সী তরুণীর জানিয়েছে, তাদের প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে অপকর্ম করাতো। এতে কেউ রাজি না হলে পেটাতো পাপিয়া। মেয়েদের অশ্লীল ছবি হাইপ্রোফাইল লোকদের ফোনে পাঠিয়ে লোভ দেখাতো এবং তারা এলে হোটেলে জিম্মি করা হতো।

র‌্যাব জানায়, পাপিয়া দম্পতি নানা অপকর্মের মাধ্যমে ঢাকা, গাজীপুর ও নরসিংদীতে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। তাদের নামে একাধিক ফ্ল্যাট, গাড়ি, বাড়ি, প্লট এবং ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে। পাপিয়া রাজনৈতিক তদবিরের কথা স্বীকার করলেও সেই নেতাদের নাম জানাতে রাজি হননি। তবে রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় র‌্যাব।