advertisement
আপনি দেখছেন

বাবা ছেড়ে গেছে, অন্য জায়গায় বিয়ে হয়েছে মায়ের। নানীর সঙ্গে থাকতেন। কিন্তু নানীরই পেট চলে না, তাকে খাওয়াবে কোথা থেকে। আর তাই কাজের খোঁজে ঘর থেকে বের হওয়া। লঞ্চে চড়ে বসেন, কিন্তু লঞ্চের স্টাফদের কুনজর পড়ে তার ওপর। নানা প্রস্তাব দেয়, হাত ধরে টানাটানি করে। এক পর্যায়ে চলন্ত লঞ্চ থেকে মাঝনদীতে ঝাঁপ দেন কিশোরী।

tazumuddin health complexতজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

ভোলার তজুমদ্দিন উপজলোর বেতুয়া নৌরুটে গতকাল শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরী নোয়াখালী জেলার তেলিয়ার চর ঘাটে ঢাকাগামী এমভি কর্ণফুলী-১৩ নামক লঞ্চে উঠে বসেন। কিন্তু শুরু থেকেই লঞ্চের স্টাফরা তাকে হয়রানি করতে থাকে। লঞ্চটি ভোলার তজুমদ্দিন উপজলোর বেতুয়া এলাকায় পৌঁছলে এক পর্যায়ে তাদের হাত থেকে সম্ভ্রম বাঁচাতে লঞ্চ থেকে মাঝ নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি। পরে চিৎকার শুনে স্থানীয় জেলেরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে তজুমদ্দিন থানা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ওই কিশোরী গণমাধ্যমকে জানান, লঞ্চে উঠার পরই বাবুর্চি ও সহকারী তাকে বিরক্ত করতে শুরু করে, এমনকি কয়েকজন হাত ধরে টান দেয়। টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এক পর্যায়ে তাদের হাত থেকে বাঁচতে আমি নদীতে ঝাঁপ দেই। পরে জেলেরা উদ্ধার করে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

mv karnafuli 13 launchকর্ণফুলী-১৩ লঞ্চ

এ ব্যাপারে তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জিয়াউল হক জানান, নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার তেলিয়ারচর গ্রামের ওই কিশোরী তার নানীর কাছে থাকত। শনিবার দুপুরে সে হাতিয়া থেকে লঞ্চে উঠে। চৌমুহনী স্টেশন ছাড়ার পর নদীতে ঝাঁপ দেয় সে।

ওসি জানান, লঞ্চের বাবুর্চি তাকে রাতে তার কেবিনে থাকার প্রস্তাব দেয় বলে অভিযোগ করেছে ওই কিশোরী। আর সেজন্যই ইজ্জত বাঁচাতে সে নদীতে ঝাঁপ দেয়। লঞ্চ থেকে তার জন্য বয়া ছুড়ে মারলেও তাকে ধরা পাওয়া যায়নি। পরে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যায় লঞ্চটি। এক পর্যায়ে তার চিৎকার শুনে ঘটনার তিন ঘণ্টা পর স্থানীয় জেলেরা তাকে উদ্ধার করেন। এর পর তাকে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

জিয়াউল হক আরো জানান, ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করছে। ওই কিশোরীর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আত্মীয়-স্বজনদের পাওয়া গেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র মণ্ডল জানান, ওই কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি আছে। সে এখন সুস্থ আছে।

sheikh mujib 2020