advertisement
আপনি দেখছেন

বিশ্বব্যাপী চলমান করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটের ফলে বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের পরিবারগুলোকে ভুগতে হবে বলে হুঁশিয়ারি করেছে জাতিসংঘ। অন্য যে দেশগুলো এই সংকটের মুখে পড়বে সেগুলো হলো ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, নেপাল, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া ও তাজাকিস্তান।

un logo bangladeshজাতিসংঘের লোগো

দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রেশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড শীর্ষক এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ এমন সতর্কতা উচ্চারণ করেছে।

গতকাল সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংকটের কারণে বিভিন্ন দেশে লকডাউন ও অন্যান্য বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে ঠিকভাবে ব্যবসায়-বাণিজ্য হচ্ছে না। ফলে অনেক অভিবাসী শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে। অনেকে অসুস্থ হয়েও পড়েছে। দীর্ঘ সময় কাজ-কর্ম না থাকায় নিজ দেশে পাঠানো তাদের রেমিট্যান্সও শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যেসব দরিদ্র পরিবার প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদের সংকটের সম্মুখীন হতে হবে।

singapoor bd workerসিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি শ্রমিক

এতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের চলমান মহামারির কারণে বছরের শেষ নাগাদ আরো ১৩ কোটি ২০ লাখের মতো মানুষ ক্ষুধার সম্মুখীন হতে পারে। এ জন্য বিশ্বের সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের প্রতি মানুষের জন্য পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করার নীতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘ বলছে, অন্তত দুই শ কোটি মানুষ গত বছর খাদ্য নিরাপত্তার অভাবে ভুগেছে। যার ৭৪ কোটির বেশি মানুষের খাদ্য সংকট ছিল প্রকট। করোনা মহামারির কারণে এখন পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে ধাবিত হচ্ছে। জাতিসংঘ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, এই অবস্থা চলতে থাকলে তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে।

অবশ্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে বর্তমানে খাদ্যের সংকট নেই। কিন্তু এই খাদ্য পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। কারণ করোনার সংক্রমণ ঠেকানোর অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। সেইসঙ্গে বাজার ব্যবস্থা ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সেইসঙ্গে চলছে ব্যবসায়-বাণিজ্যতেও মন্দা।

এতে আরো বলা হয়, করোনার এই সংকটে নষ্ট হয়েছে অনেক সবজি, ফল, মাছ , মাংস ও ডেইরি সামগ্রী। পাশপাশি যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট। ফলে উৎপাদনের পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

sheikh mujib 2020