advertisement
আপনি দেখছেন

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের কাছে কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করছে সরকার। এর ফলে প্রাকৃতিক এই বনাঞ্চলের মারাত্মক ক্ষতি হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা।

john kerry usa former foreign secretaryজন কেরি, ফাইল ছবি

সুন্দরবন রক্ষায় উদ্যোগ থাকলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নিয়ে উদ্বেগ আমলে নেয়নি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। এটিকে সুন্দরবন ইস্যুতে সরকারের বিপরীতমুখী অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’ প্রকাশ করে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত ও উপদেষ্টা জন কেরি। গত ৯ এপ্রিল সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকা এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রকল্পের যৌক্তিকতা জানতে চান কেরি। তাদের বৈঠকে উপস্থিত থাকা সরকারি একাধিক সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় কেরির সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।

john kerry joint press conference dhakaপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জন কেরি

বৈঠকে সুন্দরবনের প্রসঙ্গ উঠলে সেটিকে বাঁচাতে সরকারের নানা উদ্যোগ তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় সুন্দরবন নিয়ে সরকারি কর্মকাণ্ডে কনফিউজড (বিভ্রান্ত)! বলে জানান জন কেরি। তিনি বলেন, একদিকে সুন্দরবন বাঁচানোর উদ্যোগ, অন্যদিকে রামপাল প্রকল্প কী করে সম্ভব!

সূত্র বলছে, কেরির এমন মন্তব্যের সদুত্তর দিতে না পেরে অস্বস্তিতে পড়েন বাংলাদেশি কর্মকর্তারা। বৈঠকের শেষ দিকে ফের সুন্দরবন ও রামপাল নিয়ে কথা বলেন কেরি।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে কেরি বলেন, ‘আমি কি একটা ভয়ানক অনুরোধ করতে পারি? এরপরই জানতে চান তিনি, রামপাল প্রকল্পের কাজ কি বন্ধ করা সম্ভব?

বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে আপত্তির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে তোলেননি মার্কিন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেরি। তবে প্রকল্পটি পরিবেশ বিপর্যয়ের বড় কারণ হবে, তা আলোচনায় উল্লেখ করেন তিনি।

rampal location 1রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অবস্থান

এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জন কেরি বলেন, প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিতে চায় বাইডেন প্রশাসন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর অংশগ্রহণ আশা করা হচ্ছে।

ভারতের দিল্লি হয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ঢাকা সফরে আসা জন কেরি সিরিজ বৈঠক করেন বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে। এ নিয়ে বেশ কয়েকটি টুইট করেছে দেশটির ঢাকাস্থ দূতাবাস।

ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে জো বাইডেন লিডার্স ক্লাইমেট সামিটে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বিষয়টি উল্লেখ করে আরো বলা হয়, গ্লাসগোর কপ-২৬ সম্মেলনে তার নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরতে এটি করা হয়েছে।