advertisement
আপনি দেখছেন

করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’র প্রথম দিন আজ বুধবার কর্মস্থলে যেতে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন অনেক চিকিৎসক। জরিমানাসহ দুই ঘণ্টা আটকে রাখার মতো অভিযোগও পাওয়া গেছে।

lockdown 2021লকডাউন, ফাইল ছবি

বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছে চিকিৎসকদের নিয়ে কাজ করা ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজ (এফডিআরএস)। সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব রাহাত আনোয়ার চৌধুরী চিকিৎসকদের অভিযোগগুলো জানান।

লকডাউন শুরুর পর সকাল থেকে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক অভিযোগ করেন। তারা মূলত দুই ধরনের সমস্যার কথা এফডিআরএসকে জানায়।

এর মধ্যে রয়েছে- হাসপাতালে যাওয়া-আসার সময় পুলিশের চেকপোস্টে হয়রানি এবং রাস্তায় যানবাহন না পাওয়া। এই দুই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়ে নিজস্ব গ্রুপগুলোতে পোস্ট দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

dhaka in lockdownলকডাউনে ফাঁকা ঢাকায় পুলিশ

বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের ফেসবুক পেজে ডা. কৃষ্ণা হালদার লেখেন, ‍গত রাতে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করি। সকালে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় কারওয়ান বাজার সিগন্যালে গাড়িটি আটকে দেয় পুলিশ। চালক ও আমার আইডি কার্ড দেখানোর পরেও মামলা দেয়া হয়।

জরিমানা ও কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগ করেন বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও ‘মুভমেন্ট পাস’ বের করা যায়নি।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের কোভিড আইসিইউর নার্সরা অধিদপ্তরের সংযুক্ত স্টিকার থাকা গাড়িতে আসার সময় সকালে ভোগান্তিতে পড়েন। বিষয়টি জানিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন তাদের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক শাহজাদ হোসেন মাসুম।

doctor postজরিমানার নথি

গাড়িটি টঙ্গী থেকে আসার পথে পুলিশ আটকে রাখে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুভমেন্ট পাস ছাড়া তাদের হাসপাতালে যেতে দেয়া হবে না। বিষয়টি জানার পর পরিচালককে জানালেও গাড়ি ছাড়েনি। দুই ঘণ্টা আটকে থাকার পর তারা হাসপাতালে পৌঁছান।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের চিকিৎসক ইফতেখার রাতের দায়িত্ব পালন করে বাসায় ফিরছিলেন অ্যাম্বুলেন্সে। তাকে ফার্মগেটে নামিয়ে দেয়া হলে ৭ কিলোমিটার হেঁটে রামপুরার বাসায় পৌঁছান তিনি।

স্কয়ার হাসপাতালের করোনা ইউনিটে দায়িত্ব পালন করা চিকিৎসক নাজমুল ইসলামকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার সেই স্লিপ যুক্ত করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন তার স্ত্রী চিকিৎসক ইসরাত জাহান।

dhaka in lockdown 1লকডাউনে ফাঁকা ঢাকা

রাস্তায় হয়রানির আরো কিছু অভিযোগ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মুবিনুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়।

জরুরি সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকরা লকডাউনের আওতামুক্ত থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু জায়গায় সমস্যা হয়েছে, জানা মাত্র তা সুরাহার চেষ্টা করছি।

এক প্রশ্নের জবাবে চিকিৎসকদের গাড়িচালকদের মুভমেন্ট পাস নিতে হবে বলে জানান মুবিনুর রহমান। তবে ৩ ঘণ্টার এই মুভমেন্ট পাস নিতে অনেকে চেষ্টা করেও ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।