এলপিজি কিনতে গিয়ে দিশেহারা সাধারণ মানুষ
- Details
- by ২৪ ডেস্ক
হঠাৎ দেখা দেওয়া সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দামে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এই অরাজক পরিস্থিতি সামাল দিতে বাজার তদারককারী সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কার্যত অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে। কমিশনের চেয়ারম্যানও স্বীকার করেছেন, এককভাবে বিইআরসির পক্ষে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, এজন্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন।

বিইআরসি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিলেও খুচরা বাজারে তা কখনোই পুরোপুরি কার্যকর হতে দেখা যায় না। সাধারণত নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দরে সিলিন্ডার বিক্রি একপ্রকার অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছিল। তবে গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় এই ব্যবধান আকাশচুম্বী হয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হলেও খুচরা বাজারে তা ১ হাজার ৫৫০ টাকার নিচে পাওয়া যায়নি। গত বুধবার এই দাম ১ হাজার ৬০০ টাকায় পৌঁছায়। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় বৃহস্পতি ও শুক্রবার, যখন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। এমনকি চড়া দাম দিয়েও অনেক জায়গায় গ্যাস মিলছে না।
রাজধানীর মগবাজার, বাংলামোটর, নিউমার্কেট, ইস্কাটন গার্ডেন ও আজিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তীব্র গ্যাস সংকটের চিত্র দেখা গেছে। বাংলামোটর এলাকার চা বিক্রেতা খলিল জানান, দোকান চালানোর জন্য গ্যাস অপরিহার্য, কিন্তু ১৩০০ টাকার গ্যাস কিনতে তাকে ২১০০ থেকে ২২০০ টাকা গুনতে হচ্ছে এবং সেটিও পাওয়া যাচ্ছে অনেক দেরিতে। মিন্টু নামের এক ক্রেতা জানান, দাম কমার আশায় তিন দিন ধরে বৈদ্যুতিক হিটারে রান্না করছেন, কিন্তু বাধ্য হয়ে শেষমেশ ২২০০ টাকা দিয়েই সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে তাকে। বিক্রেতারা বলছেন, ডিলারদের কাছ থেকে চড়া দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে বলেই তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সংকটের মূল কারণ আন্তর্জাতিক পরিবহন জটিলতা। বাংলাদেশ সাধারণত কাতার, ওমান, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এলপিজি আমদানি করে। সম্প্রতি এলপিজি পরিবহনকারী কয়েকটি জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া ব্যবসায়ীরা সময়মতো ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারার কারণেও আমদানিতে বিঘ্ন ঘটেছে। এলপিজি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সংগঠন লোয়াবের সহসভাপতি হুমায়ুন রশিদ জানান, উৎস থেকে গ্যাস পাওয়া এবং জাহাজ নিশ্চিত করা—উভয় ক্ষেত্রেই সমস্যা হচ্ছে। তবে বিকল্প উৎস ও জাহাজের সন্ধান চলছে এবং চলতি মাসের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতির আশা করছেন তারা।
সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। শনিবার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টার বাসভবনে বিইআরসি চেয়ারম্যান, জ্বালানি সচিব ও বিপিসি চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এলপিজির বাড়তি দাম নিয়ে আলোচনা হয় এবং উপদেষ্টা মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এর ধারাবাহিকতায় রবিবার (৪ জানুয়ারি) ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে জ্বালানি উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খানের।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কম। তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ আগেও ছিল, কিন্তু এবারের বৃদ্ধি অস্বাভাবিক। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, জ্বালানি তেলের বাজার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলপিজির বাজার প্রায় পুরোটাই বেসরকারি খাতের দখলে। ফলে সরকারের পক্ষে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।
এদিকে, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের শুরুতে নতুন করে এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়। রবিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানুয়ারি মাসের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করবে বিইআরসি। সৌদি আরামকোর কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) অনুযায়ী এই দাম সমন্বয় করা হবে। তবে ভোক্তাদের আশঙ্কা, আনুষ্ঠানিক দাম যাই হোক না কেন, বাজারের সিন্ডিকেট না ভাঙলে দুর্ভোগ কমবে না।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.