advertisement
আপনি দেখছেন

দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে। মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো যোগ হয়েছে টিকার স্টক নিয়ে দুশ্চিন্তা। সরকারের হাতে যে পরিমাণ টিকা মজুত আছে, তাতে করে চলতি এপ্রিল মাসটা কোনোরকমে চলবে। ওদিকে চেষ্টা চললেও নতুন করে টিকা আসার কোনো সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।

corona vaccine 1

এ অবস্থায় পুরো টিকাদান কর্মসূচিই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুরু থেকে বিকল্প প্রস্তুতি না থাকায় এমন সঙ্কটের মুখে পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন বলেন, আমাদের কাছে যে পরিমান টিকা আছে তা দিয়ে এ মাসটা চলে যাবে আশাকরি। এর মধ্যে যদি টিকার সংস্থান না হয়, তাহলে পুরো বিষয়টি মুখ থুবড়ে পড়বে। অনেককে তারিখ অনুযায়ী দ্বিতীয় ডোজ দেয়া সম্ভব হবে না।

ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন আরো বলেন, টিকার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজেই দেখছেন। রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে টিকা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের জন্য ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর গত ২০ জানুয়ারি দেশে প্রথমবারের মতো টিকা এসে পৌঁছায়। সেটা ছিল ভারতের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ২০ লাখ ডোজ।

serum vaccine india

পরবর্তীতে গত ২৫ জানুয়ারি আসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা, যা ছিল সেরামের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তির আওতায় প্রথম চালান। এরপর এসেছে আরও ২০ লাখ ডোজ। উপহার হিসেবে আরও ১২ লাখ ডোজ টিকা পৌঁছেছে ২৬ মার্চ। সবমিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত টিকা এসে পৌঁছেছে ১ কোটি ২ লাখ ডোজ।

গত ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে প্রথম টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ওই দিন রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে একজন নার্সকে দেওয়ার মাধ্যমে পরীক্ষামূলক এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সারাদেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয় গত ৭ ফেব্রুয়ারি।