advertisement
আপনি দেখছেন

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এবং তার স্বামী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেলকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র‌্যাবের একটি সূত্র।

evaly chairman and mdইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও এমডি মোহাম্মদ রাসেল

এর আগে তাদের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাবের একটি দল। সংস্থাটির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বাসায় অভিযান পরিচালনার এক পর্যায়ে অর্থ আত্মসাতের লাগাতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইভ্যালির এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। র‌্যাবের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।

ইভ্যালির বিরুদ্ধে গত প্রায় দুই মাস ধরে একের পর এক প্রতারণার অভিযোগ আসতে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাত ১টার দিকে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন আরিফ বাকের নামে এক ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, আমরা তিন বন্ধু মিলে ইভ্যালিতে ২০ লাখ টাকার পণ্য অর্ডার করেছি। পণ্য না দিয়ে উল্টো তারা এখন হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।

evaly bdইভ্যালি

ভুক্তভোগী আরিফ বাকের বলেন, ইভ্যালির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে আমরা তিন বন্ধু কিছু পণ্য অর্ডার করেছিলাম গত মে মাসে। একজন ৩ লাখ ১০ হাজার, একজন ৯ লাখ এবং আরেকজন ৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকার পণ্য অর্ডার করি। অর্ডারের সব টাকা বিকাশ, নগদ ও সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। নিয়মানুযায়ী পণ্যগুলো ৭ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করার কথা।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ‘গত ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পণ্যের জন্য নানাভাবে যোগাযোগ করেও ব্যর্থ হই। ৯ সেপ্টেম্বর সশরীরে ইভ্যালির ধানমন্ডির অফিসে উপস্থিত হয়ে পণ্য ডেলিভারির ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে।’

‘একপর্যায়ে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল আমাদেরকে হুমকি-ধমকি দেন। আমাদের পণ্য বা টাকা-কোনোটিই দেওয়া হবে না বলে চিৎকার করতে থাকেন।’ বলেন ভুক্তভোগী আরিফ বাকের।

ইভ্যালির বিরুদ্ধে এর আগেও অনেক অভিযোগ জমা পড়েছে। গ্রাহকরা আন্দোলনও করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির নিজেদের ভাষ্য, গ্রাহকের কাছে ৩১১ কোটি টাকা দেনা আছে তারা। তবে এই সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট অনেকের। হাজার হাজার গ্রাহক টাকা জমা দিলেও পণ্য পাচ্ছেন না। তাগাদা দিলে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।