advertisement
আপনি পড়ছেন

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিস্থিতি ক্রমশই বিভীষিকাময় হয়ে উঠছে। এতে মানুষ যেমন শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনিভাবে ক্ষতি হচ্ছে সামগ্রিক অর্থনীতিরও। এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ লেটার্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ভীষণ গরম তার ওপর আবার অতিরিক্ত আর্দ্রতা -এমন প্রতিকূল আবহাওয়া বা হিউমিড হিটের (ভ্যাপসা গরম) কারণে প্রতিবছর ৩২০০ কোটি কর্মঘণ্টা হারাচ্ছে বাংলাদেশ। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

humid hot in bangladeshবাংলাদেশের প্রান্তিক চাষীরাই ভ্যাপসা গরমে বেশি ভোগেন

গবেষণায় মূলত বাইরে খোলা স্থানে ভারি কাজ করা মানুষের কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, আবহাওয়ার এমন বিরূপ পরিস্থিতির কারণে যেসব দেশ শ্রম ও উৎপাদনশীলতা হারাচ্ছে, এমন শীর্ষ পাঁচ দেশের সারিতে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

হিউমিড হিট, শ্রম এবং উৎপাদনশীলতার ওপর কেমন প্রভাব ফেলে সে বিষয়ে করা গবেষণার ফলে দেখা গেছে, ২০০১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এই ভ্যাপসা গরমের জন্য মানুষদের বাইরে কাজ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এ সময়ে বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৬৭ হাজার সাতশ কোটি কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। টাকার অংকে এই ক্ষতির পরিমাণ প্রতি বছর দুই লাখ কোটি ডলারেরও বেশি, যা করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী মোট আর্থিক ক্ষতির প্রায় সমান। এর মধ্যে ভারত একাই হারিয়েছে প্রায় ২৫ হাজার ৯০০ কোটি কর্মঘণ্টা, যেখানে চীন হারিয়েছে ৭২০০ কোটি ঘণ্টা।

humid hotফাইল ছবি

ল্যানসেটের বার্ষিক কাউন্টডাউন অন হেলথ অ্যান্ড হিউম্যানিটি রিপোর্টে গত বছর বলা হয়েছিল, ২০২০ সালে প্রচণ্ড তাপের প্রভাবে সামগ্রিকভাবে প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ কোটি ঘণ্টার কাজ নষ্ট হয়ে গেছে, গরীব দেশগুলো গড় সম্ভাব্য আয় হারিয়েছে মোট জিডিপির চার থেকে আট শতাংশ।

আর ন্যাচার ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালে গত বছর প্রকাশিত গবেষণায় জানানো হয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর তাপমাত্রা বাড়ছে। আর শুধু সে কারণেই বছরে এক লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।