advertisement
আপনি দেখছেন

পানির দর। এ কথা শোনার সাথে সাথেই সবাই ভেবে বসতে পারেন, লাখ টাকার জিনিস বুঝি কয়েকশ টাকায় পাওয়া গেল। কিন্তু পানির দরই যদি হয় লিটারপ্রতি ৮০ হাজার ডলার, মানে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা! তাহলে উপায়?

acqua di cristallo tributo a modiglianiডি ক্রিস্টালো ট্রিবিউটো আ মদিগ্লিয়ানির পানির বোতল

ফ্রান্স ও ফিজিতে পাওয়া যায় এ রকম মহার্ঘ পানি, যার পোশাকি নাম ‘অ্যাকোয়া ডি ক্রিস্টালো ট্রিবিউটো আ মদিগ্লিয়ানি’। এক লিটার নয়, ৭৫০ মিলিলিটার পানি থাকে এক একটি সুসজ্জিত বোতলে। ওই পরিমাণ পানির দামই পড়ে ৬০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৫১ লাখ ৪৮ হাজার টাকার কিছু বেশি।

এ পানি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, এ পানি পানে স্বাস্থ্য তরতাজা থাকে। প্রতি বোতল পানিতে ৫ গ্রামের মতো স্বর্ণভস্ম থাকে, যা মানবদেহের জন্য খুবই স্বাস্থ্যকর। ফলে দামটা তো একটু সয়ে নিতেই হবে!

acqua di cristallo tributo a modigliani waterএ ব্র্যান্ডের সবচেয়ে সস্তা বোতলের দাম ২২ হাজার টাকা

অবশ্য পানি খেয়ে ফেলার সাথে সাথে যেন এর রাজকীয় ভাবটা একেবারে শেষ হয়ে না যায় তার ব্যবস্থাও করে রেখেছেন প্রস্তুতকারীরা। তারা জানাচ্ছেন, পানির মতো বোতলটাও বেজায় দামি। ফার্নান্দো আলতামিরানোর করা নকশায় চামড়ার খাপে থাকে ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি এ বোতল। ২০১০ সালে অ্যাকোয়া ডি ক্রিস্টালো ট্রিবিউটো আ মদিগ্লিয়ানির এ বোতল বিশ্বের সবচেয়ে দামি পানির বোতল হিসেবে গিনেসবুকে জায়গা করে নেয়। এ ব্র্যান্ডের সবচেয়ে সস্তা বোতলের দাম ২২ হাজার টাকা।

এ পানি কারা পান করার সাহস করেন সে সম্পর্কে খুব একটা জানা না গেলেও শোনা গেছে ভারতের বিশিষ্ট শিল্পপতি রিলায়েন্সের মালিক মুকেশ আম্বানির স্ত্রী নীতা আম্বানি এ পানির একজন গ্রাহক। নিয়মিতই তিনি এ পানি পান করেন কিনা, তা অবশ্য জানা যায়নি।

সৈয়দ মুজতবা আলীর পাদটীকা শিরোনামের গল্পে পণ্ডিত মশাই জিজ্ঞাসা করেছিলেন, লাট সাহেবের তিন ঠ্যাংয়ের কুকুরের পেছনে যদি মাসে ৭৫ টাকা খরচ হয়, তাহলে এক ঠ্যাংয়ের পেছনে খরচ কত? আজ অ্যাকোয়া ডি ক্রিস্টালো ট্রিবিউটো আ মদিগ্লিয়ানি পানির দাম শুনে মনে হচ্ছে প্রশ্ন করাই যায়, ৭৫০ মিলিলিটারের পানির দাম যদি ৫১ লাখ টাকা হয়, তাহলে এক ঢোক পানির দাম কত?