advertisement
আপনি দেখছেন

ছোট শিশুরা সাধারণত পড়তে বসতে চায় না। তারপর যদি তাদের কোনরকম পড়াতে বসানো হয়, বেশিরভাগ সময়ই তাদের মন পড়ে থাকে খেলার মাঠ বা অন্য কোথাও। পাশাপাশি পড়ার সরঞ্জাম নিয়ে খুনসুটি তো আছেই। তাই ছোট শিশুদের পড়ায় মনঃসংযোগ করানো বাবা-মায়ের জন্য রীতিমতো যুদ্ধ জয়ের সমান।

parents teach their child

কিন্তু কিছু পদ্ধতি মেনে চললে সহজেই পড়ার সময় শিশুদের মনঃসংযোগ বাড়ানো সম্ভব। জেনে নিন সেসব পদ্ধতি-

ঘাম ঝরানো: পড়ায় শিশুদের মনঃসংযোগ বাড়াতে ঘাম ঝরানো জরুরি। কারণ ঘাম ঝরলে শরীরের এনডরফিন হরমোন বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হতে থাকে। যা এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত শিশুদের পড়ায় মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই দিনে অন্তত এক ঘণ্টা শিশুদের ছোটাছুটি বা খেলতে দিন।

খেলার ছলে পড়ানো: সাধারণত শিশুরা পড়তে না চাইলে বাবা-মা জোর করে পড়াতে চেষ্টা করেন। কিন্তু চিকিৎসকরা বলেন, এতে শিশুদের পড়ায় মনোযোগ থাকে না। তাই শিশুদের জোর না করে খেলার ছলে পড়ানো চেষ্টা করা যেতে পারে।

যেমন- শিশুকে নিয়ে বাজারে গেলে তাকে শাক-সবজির রং চেনান। তারপর পরিবারের সদস্যরা বা আত্মীয়-স্বজন একত্রিত হলে শিশুকে পোশাকের রং সম্পর্কে বলতে বলুন। শিশুকে দিয়ে কবিতার লাইন বলাতে চাইলে, প্রথমে নিজে কবিতার দুই লাইন বলুন। তারপর শিশুকে বলুন যে, আপনি বাকিটুকু ভুলে গেছেন, মনে করতে পারছেন না। দেখবেন, কবিতার বাকি লাইনগুলো আপনার সন্তানই আনন্দ নিয়ে বলে যাচ্ছে। তবে শিশুর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শুধু শুধু তাকে দিয়ে নাচ, গান বা কবিতা বলাবেন না।

ঘুমানোর আগে গল্প বলা: ঘুমানোর আগে প্রতিদিন শিশুকে কিছুক্ষণ গল্প বলুন। সম্ভব হলে অভিনয় করে দেখান। এতে তাদের আগ্রহ বাড়ে এবং প্রশ্ন করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। তবে শিশু প্রশ্ন করলে তার উত্তর দিতে বাবা-মায়ের বিরক্ত হওয়া যাবে না।

বাবা-মায়ের করণীয়: শিশুদের পড়ায় মনোযোগ বাড়াতে পিতা-মাতারও কিছু করণীয় আছে। যেমন- শিশুকে সময় দেওয়া, টিভি বা ইলেক্ট্রনিক গেজেট থেকে দূরে রাখা। নিজেরাও সারাক্ষণ বাড়িতে টিভি দেখা থেকে বিরত থাকুন। তবে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে শিশুকে পড়ার জন্য জোর করা যাবে না। এতে পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ কমে যায়। তাছাড়া ১০ বছরের শিশুর তুলনায় ৪-৫ বছরের শিশুর পড়াশোনায় মনোযোগ কম থাকবে এটাই স্বাভাবিক।