advertisement
আপনি দেখছেন

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মরণব্যাধী করোনাভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিনোম বিন্যাস উন্মোচন করেছেন বলে দাবি বাংলাদেশের একদল গবেষকের। এর ফলে দেশের কোন জেলায় কী ধরনের ভাইরাস বিস্তার লাভ করেছে, কোন প্রজাতির ভাইরাস বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তার স্বরূপ, প্রকৃতি ও উৎপত্তিস্থল কোথায়, তা নির্ণয় করা যাবে। একই সঙ্গে টীকা উৎপাদন করা সহজ হবে।

corona medicineকরোনার ‘পূর্ণাঙ্গ’ জিনোম বিন্যাস উন্মোচনের দাবি বাংলাদেশি গবেষক দলের

আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)। গবেষক দলের সদস্যরা সবাই সিভাসু, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের (বিআইটিআইডি) গবেষক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিআইটিআইডির ল্যাবে প্রাপ্ত করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ পূর্বক বিভিন্ন জেলার ১২টি নমুনা ঢাকাস্থ বিজেআরআইর জিনোম সিকোয়েন্স ল্যাবে প্রেরণ করেন গবেষকরা। এভাবে ইলুমিনা নেক্সটসেক প্লাটফর্মে প্রায় ২৩ গিগাবাইট জিনোম ডেটা সংগৃহ করা হয়। পরে বায়োইনফরমেটিক্স এনালাইসিসের মাধ্যমে মানব কোষের আরএনএ এবং করোনাভাইরাসের আরএনএ পৃথক করা হয়।

পরবর্তীতে সংগ্রহকৃত সবগুলো সিকোয়েন্সকে জিনোম এসেম্বলি সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণপূর্বক ভাইরাসটির জিনোম বিন্যাস উদঘাটন করা হয়। এখন অধিকতর তথ্য উদঘাটনের জন্য সিভাসু আরো ২০টি নমুনা বিজেআরআইতে প্রেরণ করেছে। সেগুলো আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আন্তর্জাতিক ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটাবেজে জমা দেয়া হবে।

পূর্ণাঙ্গ জিনোম বিন্যাস উন্মোচন করার ফলে এখন থেকে বিভিন্ন করোনা পজেটিভ রোগী কোন ধরনের ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছে, তা প্রথমবারের মতো জানা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে গবেষক দলের প্রধান সমন্বয়ক সিভাসুর উপাচার্য ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় এই গবেষণা সফল হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এই জিনোম বিন্যাস আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের গবেষকদের উদ্ভাবন ও দক্ষতা প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করি।

গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন- সিভাসুর প্যাথলজি এন্ড প্যারাসাইটোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. জুনায়েদ ছিদ্দিকী, মাইক্রোবায়োলজি এন্ড ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ বিভাগের প্রফেসর ড. পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, ডা. ইফতেখার আহমেদ রানা, ডা. সিরাজুল ইসলাম, বিআইটিআইডির পরিচালক প্রফেসর ডা. এমএ হাসান চৌধুরী, প্রফেসর ডা. শাকিল আহমেদ এবং বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের ড. মো. শহীদুল ইসলাম, সাব্বির হোসেন প্রমুখ।