advertisement
আপনি পড়ছেন

শুরু হয়েছে হিজরি বর্ষ ১৪৪৪। এ উপলক্ষে সৌদি আরবের ধাহরানের কিং আব্দুল আজিজ সেন্টার ফর ওয়ার্ল্ড কালচার সেন্টারে (ইথরা) একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনীটির নাম ‘হিজরা: নবীর পদচিহ্ন’। খবর আরব নিউজ। 

the caves of hijratপ্রদশর্নীতে দেখানো হচ্ছে পাহাড়ের গুহা

হিজরত ইসলামের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আজও বিশ্বে নানা কারণে এর আবেদন প্রাসঙ্গিক হিসেবেই রয়ে গেছে। অনেক লোককে দ্বন্দ্ব থেকে বাঁচতে বা বৃহত্তর স্বাধীনতা পেতে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে হয়েছে। পরে তারা অনেকে এমন জমিতে বসতি স্থাপন করেছে যা তাদের নিজস্ব ছিল না। ধীরে ধীরে তারা সেখানে একটি নতুন সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেছে।

মক্কা থেকে মদিনায় মহানবী (সা.) যে হিজরত করেছিলেন, এক হিসেবে তার মাধ্যমেই ইসলাম নামের একটি নতুন সভ্যতার সূচনা হয়েছিল। যে সভ্যতায় এখন যুক্ত আছে বিশ্বের ১৫০ কোটি মানুষ।

exibitionহিজরতের সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিস

হিজরতের সেই যাত্রাকে, সেই তাৎপর্যকে আধুনিক দর্শকের কাছে উপস্থাপন করেছে ইথরা। গত মাসে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়। প্রদর্শনীরটির কিউরেটরের দায়িত্ব পালন করছেন ড. ইদ্রিস ত্রেভাথান। মহানবী (সা.) মদিনায় প্রবেশের সময় আনসাররা যে নাশিদ গেয়েছিলেন, প্রদর্শনী উদ্বোধনের সময় সেটি আরবি, ইংরেজি, উর্দু ও ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় আবৃত্তি করেন কণ্ঠশিল্পীরা।

ইসলামিক শিল্প ইতিহাসের বিশেষজ্ঞ ত্রেভাথান গত আট বছর ধরে ইথরার সাথে আছেন। তিনি আরব নিউজকে বলেন, এটি একটি বিশেষ প্রদর্শনী। এর প্রস্তুতিতে তিন বছর সময় লেগেছে। মহামারির ঠিক আগে আমরা এর কাজ শুরু করেছিলাম। প্রদর্শনীটি শিল্প, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও গবেষণার খোরাক যোগাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পুরো প্রদর্শনীজুড়ে ডকুমেন্টারি ও ভিডিও সাজিয়ে রাখা হয়েছে। সেই সাথে আরবি ও ইংরেজি ভাষায় রুটটির বর্ণনা করা হয়েছে। মহানবী যেমন উটে চড়েছিলেন, তেমন একটি উট, তাদের আশ্রয় নেওয়ার গুহা এমনকি হিজরতের বর্ণনায় থাকা মাকড়শার জালও রাখা হয়েছে এ প্রদর্শনীতে।

ইমাম আব্দুল রহমান বিন ফয়সাল ইউনিভার্সিটির নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনার অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হুসেন আলকাদি হিজরতের পথ নিয়ে গবেষণা করেছেন। এ বিষয়ে তিনি একজন বিশেষজ্ঞ হিসাবে পরিচিত। তিনি বলেন, মরুভূমি পেরিয়ে নবী এবং তাঁর সঙ্গীরা যে পথটি বেছে নিয়েছিলেন, প্রদর্শনীতে সে ব্যাপারে বিস্তারিত বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা আজকের দিনেও ঠিক ততটাই শক্তিশালী, যতটা রাসূলের যুগে ছিল। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কেন লোকেরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পছন্দ করে বা বাধ্য হয় এবং নিজ নিজ বিশ্বাস অনুশীলন করার অধিকারের ওপর জোর দেয়।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সৌদি শিল্পী, ফটোগ্রাফার, শিক্ষাবিদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকজন খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ এই প্রদর্শনীতে যুক্ত হয়েছেন। আপাতত নয় মাস এটি চলবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।