ট্রাম্প: এপস্টেইন অধ্যায় ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের এগিয়ে যাওয়া উচিত
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে যৌন পাচার সংক্রান্ত তদন্তের লাখ লাখ নথি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছেন, দেশটি যেন এই বিষয় ছেড়ে সামনে এগিয়ে যায়। কিন্তু তা কি আদৌ সম্ভব?

যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানিয়েছেন, কংগ্রেসে গত নভেম্বরে পাস হওয়া একটি আইনের আওতায় বাধ্যতামূলকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে শুরু হওয়া এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা শেষ হয়েছে। এতে নতুন করে মামলা করার মতো কারণ পাওয়া যায়নি।
গত রোববার ব্ল্যাঞ্চ বলেন, এখানে বিপুল পরিমাণ চিঠিপত্র আছে। অসংখ্য ইমেইল আছে। অনেক ছবি আছে। কিন্তু সেগুলো কাউকে অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করার সুযোগ দেয় না।
বিবিসি বলছে, বিচার বিভাগের পর্যালোচনা শেষ হলেও, ক্যাপিটল হিলে প্রতিনিধি পরিষদ এপস্টেইন–সংক্রান্ত তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হয়েছে। রিপাবলিকানরা কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর সাক্ষ্য দিতে রাজি হন তারা।
এদিকে আরও কিছু নথি আছে। সেগুলো প্রকাশ করা হয়নি বলে সামনে আনার দাবি জানাচ্ছেন কংগ্রেসের সদস্য ও এপস্টিনের ভুক্তভোগীরা। এ সবই আবারও দেখিয়ে দিচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতো যারা স্পষ্টতই এই অধ্যায় থেকে সরে যেতে চান, তাদের জন্য এই গল্প ঝেড়ে ফেলা কতটা কঠিন হয়ে উঠেছে। আপাতত এই ঝড় থেকে দৃশ্যত কোনো স্থায়ী ক্ষতি ছাড়াই বেরিয়ে এসেছেন ট্রাম্প। কিন্তু নথিতে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিস্তারিত তথ্য যাদের ক্ষেত্রে বেশি উঠে এসেছে, আর যারা ২০০৮ সালে এপস্টেইন দণ্ডিত যৌন অপরাধী হওয়ার পরও তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন, সেসব ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি মোটেও একই রকম নয়।
মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবং প্রযুক্তি খাতের ধনকুবের ইলন মাস্কসহ আরও অনেকে প্রকাশিত নথিতে থাকা ইমেইল ও নিজেদের নাম থাকার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হয়েছেন। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প বলেন, তার মতে এখন অন্য কিছুর দিকে দেশের এগিয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে। এপস্টেইন–সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসা ট্রাম্প বলেন, আমার সম্পর্কে কিছুই বের হয়নি।
তবে বিষয়টি পুরোপুরি সঠিক নয়। প্রকাশিত নথিতে ছয় হাজারেরও বেশি বার প্রেসিডেন্টের নাম এসেছে। এপস্টেইন এবং তার সহযোগীরা ঘন ঘন তাকে উল্লেখ করেছেন। নিউইয়র্ক সিটি ও ওয়েস্ট পাম বিচের বাসিন্দা এই দুইনের মধ্যে নব্বইয়ের দশকের বেশিরভাগ সময়জুড়েই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। ট্রাম্পের ভাষ্য, দুই হাজার সালের শুরুর দিকে গিয়ে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। গত ডিসেম্বরে প্রকাশ করা এমন এক ইমেইল ট্রাম্পের নাম বিশেষভাবে নজর কাড়ে।
২০১১ সালে এপস্টেইনের সঙ্গেই দণ্ডিত হন তার সহকারী গিসলেন ম্যাক্সওয়েল। তাকে পাঠানো এক ইমেইলে এপস্টেইন লেখেন, আমি চাই তুমি বুঝতে পারো, নথিতে ট্রাম্পের না থাকাটাই একটা সংকেত। (ভুক্তভোগী) তার সঙ্গে আমার বাড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়েছে, তবু তার নাম একবারও আসেনি।
এদিকে নতুন করে ট্রাম্পের কয়েকটি ছবি প্রকাশ পেলেও, সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে জনসমক্ষে থাকা ছবি ও ভিডিওগুলোর চেয়ে নতুন কিছু ছিল না। আর ইমেইল ব্যবহারে বিরত থাকার কারণে বিখ্যাত ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এপস্টেইনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কোনো নথিভুক্ত প্রমাণও নেই। নতুন তথ্যের কোনোটিই ট্রাম্পের এই দাবিকে খণ্ডন করে না, এপস্টেইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ২০০৪ সালের দিকে শেষ হয়ে গিয়েছিল।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণের অভাবের অর্থ হতে পারে, বিচার বিভাগ ইচ্ছাকৃতভাবে তার অপরাধের নথি গোপন করেছে। প্রেসিডেন্ট যতই জোর দিয়ে বলুন না কেন যে জাতির এখন এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে, এপস্টেইনের মৃত্যুর বহু বছর পরও এই কাহিনী প্রমাণ করছে, এটি এখনো ফুরোয়নি।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.